সাবেক সচিব খায়রুল ইসলাম মান্নানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৬ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৪:২০
সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর সাবেক নির্বাহী সদস্য মো. খায়রুল ইসলাম (মান্নান), তার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এই মামলাটি করেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতারণা ও অর্থ পাচারের তথ্য পাওয়ার পর এ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।সিআইডির তথ্যমতে, অভিযুক্তরা খায়রুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মিম-এর নামে ‘মেঘমালা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ এবং তার ছেলে মোরসালিন ইসলাম সৌরদ্বীপ-এর নামে ‘মেঘমালা এস্টেট লিমিটেড’ নামে দুটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান খোলেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২০১২ সালে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর গুলশান শাখা থেকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২০ কোটি টাকা করে মোট ৪০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঋণের অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে তা বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও লেয়ারিং করা হয়।
ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে নেওয়া ওই ঋণের অর্থ প্রথমে মোরসালিন ইসলাম সৌরদ্বীপের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার হিসাবে জমা করা হয়।
পরে সেখান থেকে ৪০ কোটি টাকা ডেবিট করে ব্যাংকের বনশ্রী শাখায় ‘ইউনিয়ন ব্যাংক (প্রস্তাবিত)’ নামে একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।সিআইডি জানায়, এই অর্থ দিয়ে মোরসালিন ইসলাম সৌরদ্বীপ ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি-এর প্রতিষ্ঠালগ্নে স্পন্সর শেয়ার কেনেন।
এতে ঋণের ৪০ কোটি টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সাবেক সচিব খায়রুল ইসলাম (মান্নান), তার ছেলে মোরসালিন ইসলাম সৌরদ্বীপ এবং স্ত্রী ইসরাত জাহানের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটন ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইউডি/এআর

