‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১১:৪০

সরকার গঠনের তিন সপ্তাহের মাথায় নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ (১০ মার্চ) মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর উদ্বোধন করেন।

পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডের ৩৭ হাজারের বেশি নারীপ্রধান পরিবারকে মাসিক ২৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানায়। সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

প্রাথমিকভাবে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডের ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর বিভিন্ন স্তরে যাচাই-বাছাই, ‘ডাবল ডিপিং’ (একাধিক ভাতা গ্রহণ) ও সরকারি চাকরিজীবী বাদ দেওয়ার পর চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিতে সম্পন্ন করায় দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

বাছাই করা প্রতিটি পরিবারকে একটি করে আধুনিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন চিপ ও কিউআর কোড সম্বলিত এই কার্ড নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে জানানো হয়েছে। একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্যের জন্য একটি করে কার্ড দেওয়া হবে। যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে জি-টু-পি (সরকার থেকে ব্যক্তি) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ উপকারভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী সরাসরি তার মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়া হবে। তথ্য সংগ্রহের সময়ই সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে ঘরে বসেই তারা এই ভাতা পাবেন।

আরও পড়ুন: জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
তবে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত কোনো নারী গৃহপ্রধান যদি ইতোমধ্যে অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা পেনশন পান, তাহলে সেই বিদ্যমান সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের অন্যান্য ভাতা গ্রহণের সুযোগ অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া কোনো পরিবারের সদস্য সরকারি চাকরি করলে, বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা থাকলে, গাড়ি বা শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মতো বিলাসবহুল সম্পদ বা পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলেও সেই পরিবার এই ভাতা পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

পাইলট প্রকল্পের জন্য চলতি জুন পর্যন্ত ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে সরাসরি দেওয়া হবে এবং বাকি ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা তথ্য সংগ্রহ, সফটওয়্যার তৈরি ও কার্ড তৈরির মতো কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয় হবে। ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬’ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading