দিল্লিতে আন্দোলন চলা যন্তর মন্তর আসলে কী

দিল্লিতে আন্দোলন চলা যন্তর মন্তর আসলে কী

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার (২২ জুলাই) ২০২৬, আপডেট ২৩:১০

নয়াদিল্লির ব্যস্ত সড়কের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল জ্যামিতিক অবকাঠামো আর পাথরের যন্ত্রে তৈরি অদ্ভুত সুন্দর এক স্থাপত্য নিদর্শন হলো যন্তর মন্তর। অষ্টাদশ শতকের এই জ্যোতির্বিদ্যা পর্যবেক্ষণাগারটি কেবল ভারতের মহাকাশচর্চার অতীত ঐতিহ্যকেই বহন করে না, বরং এটি আধুনিক ইন্ডিয়ার নাগরিক আন্দোলনের এক পরিচিত কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। 

১৭২৪ সালে জয়পুরের মহারাজা সওয়াই জয় সিং (দ্বিতীয়) দিল্লির এই যন্তর মন্তর নির্মাণ করেন। তিনি গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যায় গভীর অনুরাগী ছিলেন। নির্ভুল জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশ এবং মহাজাগতিক বস্তুর গতিবিধি অনুসরণের জন্য তিনি দিল্লি ছাড়াও জয়পুর, উজ্জয়িনী, বারাণসী ও মথুরায় মোট পাঁচটি পর্যবেক্ষণাগার স্থাপন করেন। ভারতীয় ঐতিহ্য ও ফার্সি, ইসলামি এবং ইউরোপীয় জ্ঞানের সমন্বয়ে এটি নির্মিত হয়েছিল।

ঐতিহ্যবাহী কোনও দালানকোঠার বদলে যন্তর মন্তরের প্রতিটি স্থাপনাই নির্মিত হয়েছিল এক একটি বিশাল বৈজ্ঞানিক যন্ত্র হিসেবে। এর মধ্যে সম্রাট যন্ত্র নামের বিশাল সৌরঘড়িটি সূর্যের ছায়ার গতিবিধি দেখে স্থানীয় সময় নিখুঁতভাবে গণনা করত। আবার জয় প্রকাশ যন্ত্র নামের দুটি বাটি আকৃতির কাঠামো সাহায্য করত মহাজাগতিক বস্তুর অবস্থান নির্ধারণে। এছাড়া বেলনাকার রাম যন্ত্র ব্যবহৃত হতো তারা ও অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুর উচ্চতা ও দিক পরিমাপের জন্য। আধুনিক টেলিস্কোপের আগের যুগে ক্যালেণ্ডার তৈরি, সময় নির্ধারণ এবং কৃষি থেকে শুরু করে নৌপথের দিকনির্ণয়ে এই যন্ত্রগুলোর হিসাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।

সময়ের পরিক্রমায় দিল্লির এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির পরিচয় বদলে গেছে। কেন্দ্রীয় দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরগুলোর কাছে এবং খোলামেলা স্থানে অবস্থিত হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের সংগঠিত হওয়ার ও মতামত প্রকাশের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়। মহাজাগতিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান যেভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সমাবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের মঞ্চ হয়ে উঠেছে, তা দিল্লির সামাজিক সংস্কৃতির অনন্য এক সংযোজন। প্রায় ৩০০ বছর পেরিয়ে গেলেও যন্তর মন্তর ইন্ডিয়ার বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্য এবং পরিবর্তিত সামাজিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল সাক্ষী হিসেবে টিকে রয়েছে।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading