আসিফ-আমিনুলদের যেসব ‘অনিয়ম’ খুঁজে পেয়েছে এনএসসি’র কমিটি

আসিফ-আমিনুলদের যেসব ‘অনিয়ম’ খুঁজে পেয়েছে এনএসসি’র কমিটি

মহোসু। বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৭:০০

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে পরিচালক-ক্রীড়া (উপসচিব) মোহাম্মদ আমিনুল এহসানের দীর্ঘ বক্তব্যে উঠে আসে অনেক কিছুই। সেসবের প্রেক্ষিতেই ভেঙে দেওয়া হয় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ। কমিটির প্রতিবেদনে যেসব পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরেন তিনি সেগুলো হলো: ক্যাটাগরি ১ থেকে অভিযোগ জেলা বা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে। অভিযোগের উৎস ছিলেন শরিফুল আলম এবং অন্যান্য সাবেক কাউন্সিলররা। অভিযোগের তারিখ ছিল ১০ মার্চ ২০২৬। কাউন্সিলর নাম জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগটি ছিল। কাউন্সিলর মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ শরিুতে প্রথমে নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এবং এ বিষয়ে ১ এবং ২ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দেখা যায়, বিসিবি প্রথমে ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং পরে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করে। বিসিবি জেলা এবং বিভাগীয় সংস্থাগুলোকে অ্যাডহক কমিটি থেকে পুনরায় কাউন্সিলরের নাম পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিভিন্নভাবে জেলা সংস্থার সভাপতিদের প্রভাবিত করে।

এছাড়া তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টার এপিএস মিস্টার সাইফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবিত করেন যা বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিসেস হোসনে আরা আফরোজা এবং চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিসেস ফরিদা খানমের সাক্ষ্যে নিশ্চিত হয়। এটি স্থানীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ মনে হলেও এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে চলমান মামলা থাকাতে কমিটি এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। জেলা বা বিভাগীয় সভাপতিদের ওপর সরকারি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে, বিশেষ করে এনএসসি কর্মকর্তারা এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভ‚ঁইয়ার হস্তক্ষেপে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। কমিটির মতে, এটি ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টা। অধিকাংশ অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। যদিও তাদের মাধ্যমে কাউন্সিলরের নাম পাঠানো হয়। বোর্ডের সংবিধান (গঠনতন্ত্র) অনুযায়ী এসব কমিটির মেয়াদ ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাহী কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা ছিল। অ্যাডহক কমিটি বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় কমিটি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। নির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি এবং একাধিক সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। এটি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ক্যাটাগরি ১ এ প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে অ্যাডহক কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিসিবির অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা মিস্টার আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপ।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ

একাধিক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে কমিটি দেখতে পায় যে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিকভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং তার এপিএস সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটির সদস্য পরিবর্তন, তার পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে প্রভাবিত করেছেন। কমিটির মতে, এই হস্তক্ষেপ নির্বাচনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করেছে। তবে দুঃখজনকভাবে তাদের প্রকৃত অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য তারা কেউই সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হননি এবং তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি। ক্রীড়া উপদেষ্টার সহায়তায় ই-ভোটে নির্বাচন কারচুপি। কমিটি দেখতে পায় যে বিসিবি সভাপতি, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং তার এপিএস সাইফুল ইসলামের সহায়তায় সমন্বিতভাবে ই-ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কমিটি আরও লক্ষ্য করে যে, সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ কাউন্সিলররা মতামত দেন যে ই-ভোটিং পদ্ধতিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট স্থান থেকে গোপনীয়তা ব্যতীত ই-ভোট প্রদান। কমিটি দেখতে পায় যে, নির্দিষ্ট স্থান থেকে ই-ভোট প্রদান করা হয়েছে এবং এতে ভোটের গোপনীয়তা রাখা হয়নি যা মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতি এবং বিসিবি সংবিধানের পরিপন্থী। অ্যাডহক কমিটিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং নাজমূল আবেদীন ফাহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের কাউন্সিলরশিপ নিশ্চিত করতে অযৌক্তিক প্রভাব খাটানো। নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ।

বিসিবি সংবিধানের (গঠনতন্ত্র) লঙ্ঘন। ক্যাটেগরি ২, মেট্রোপলিটন ক্লাব থেকে অভিযোগ। অভিযোগ সূত্র ৫৪টি মেট্রোপলিটন ক্লাবের সভাপতি, সেক্রেটারি এবং কাউন্সিলরগণ। অভিযোগের তারিখ ৯ মার্চ ২০২৬। নির্বাচনে কারচুপি। ই-ভোটিং সিস্টেমের অপব্যবহার। সময়সীমার পরে ফারুক আহমেদের মনোনয়ন গ্রহণ। পছন্দের প্রার্থীদের অনৈতিক সুবিধা প্রদান। নির্দিষ্ট স্থানে ই-ভোটারদের ভোট প্রদানে প্রভাবিত করা। ভোটারদের সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভোট দিতে বাধ্য করা। সামগ্রিক ভোটদান পরিবেশ। বিসিবি সংবিধানের (গঠনতন্ত্রের) লঙ্ঘন। ক্যাটেগরি ৩ থেকে অভিযোগ, প্রাক্তন ক্রিকেটার ও অন্যান্য। অভিযোগ সূত্র জনাব কাজী মোহাম্মদ ইউশা এবং অন্যান্য প্রাক্তন ক্রিকেটার বা কাউন্সিলরদের পক্ষে। অভিযোগের তারিখ ১০ মার্চ ২০২৬। কমিটি দেখতে পেয়েছে যে, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোনয়ন করা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, কারণ তিনি ওই কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সুবিধা লাভ করেছেন এবং সম্ভাব্যভাবে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছেন। প্রণালীগত অনুসন্ধান, সংবিধানগত অপ্রতুলতা। বিসিবি সংবিধানের অপ্রতুলতা প্রাপ্তি। বিসিবি নির্বাচন নিয়মের অসম্পূর্ণতা প্রাপ্তি।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading