স্বর্ণ নয়, নতুন ধাতুর পেছনে ছুটছে বিনিয়োগকারীরা

স্বর্ণ নয়, নতুন ধাতুর পেছনে ছুটছে বিনিয়োগকারীরা

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৮ মে, ২০২৬, আপডেট ১০:০০

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও এখন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে আরেক মূল্যবান ধাতু— রুপা। গত এক বছরে স্বর্ণের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মুনাফা দিয়ে বিনিয়োগের বাজারে নতুন সেনসেশন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ধাতু।

আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছর রুপার দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার খনি সংশ্লিষ্ট ইটিএফগুলো প্রায় ২৭৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা দিয়েছে। বিপরীতে স্বর্ণের খনি খাতের মুনাফা ছিল প্রায় ২০৮ শতাংশ।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স রুপার দাম ৭৮ ডলারের ওপরে লেনদেন হচ্ছে। শিল্পকারখানায় রুপার ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দিকেও ঝুঁকছেন। অনেকের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে রুপা স্বর্ণের চেয়েও বেশি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

তবে রুপার উত্থানের মাঝেও স্বর্ণের বাজার থেমে নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৭০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। জেপি মর্গানসহ বড় বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার নতুন দর
গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বর্ণ ও রুপা— উভয়ের দামই বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়। একইভাবে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০৩ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকায়।

স্বর্ণের পাশাপাশি বেড়েছে রুপার দামও। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা কিনতে এখন খরচ হবে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৭২৪ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায়। উল্লেখ্য, গত দুই দফায় রুপার দাম ভরিপ্রতি মোট ২৯২ টাকা বেড়েছে।

কেন এখন রুপা কিনে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এবং ডলারের মান দুর্বল হওয়ার কারণে মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে রুপার দাম এখনও স্বর্ণের তুলনায় আপেক্ষিক শক্তিতে এগিয়ে থাকায় স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য এটি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনা এবং মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও রুপা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে এখন থেকেই রুপায় বিনিয়োগ করা হতে পারে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading