শরীয়তপুরে চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, আপডেট ১১:৩০
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা।
রবিবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুই দফা হাসপাতালের সম্মুখে ও সিভিল সার্জন কার্যলয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় অপরাধীদের প্রত্যেককে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, চিকিৎসক সংকট থাকা সত্ত্বেও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। এরপরও চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপর হামলা হয়েছে। যা পুরো চিকিৎসকদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে পরবর্তীতে কোনো চিকিৎসক এই জেলায় আসতে চাইবে না। তাই দ্রুত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন কর্মরত চিকিৎসকরা।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা ডা. মিতু আক্তার বলেন, “রোগীর স্বজন ও বহিরাগতরা সংঘবদ্ধ হয়ে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলা চালালে তিনি আমাকে ফোন করেন। আমি তাকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলি। পরে তিনি একটি কক্ষে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা সেই কক্ষের দরজা ভেঙে তাকে বের করে আবারও মারধর করে। এটি একজন চিকিৎসককে উদ্দেশ্য করে চালানো নৃশংস ও বর্বর হামলা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।”
শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন, “রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ না মেনে রোগীকে হাসপাতালে রেখে দেন স্বজনরা। পরে রোগীর মৃত্যুর পর প্রায় শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালায়।”
তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, “এমন ঘটনায় চিকিৎসকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসক পদায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।” নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইউডি/কেএস

