আলোচনা ব্যর্থ হলে যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় যুদ্ধ: ইরান

আলোচনা ব্যর্থ হলে যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় যুদ্ধ: ইরান

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, আপডেট ১১:৪৫

আমেরিকার সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হলে যেকোনো মুহূর্তে পুনরায় সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় তেহরান যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। খবর আল-জাজিরার।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

শনিবার (১৬ মে) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ মার্কিন বন্ডের ক্রমবর্ধমান সুদের হারের ছবি প্রকাশ করে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমেরিকানদের বোঝানো হচ্ছে যে, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের আকাশচুম্বী খরচ তাদের হজম করতে হবে। আসল কষ্ট তো এখনো শুরুই হয়নি। যখন মার্কিন জাতীয় ঋণ ও বন্ধকী সুদের হার লাফিয়ে বাড়বে, তখন সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাবে।”

আরাঘচি আরো উল্লেখ করেন, আমেরিকায় অটো লোনের (গাড়ি ঋণ) খেলাপি ইতিমধ্যেই গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের জেরে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরো বাড়াতে পারে, যা দেশটিকে চরম অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ঠেলে দেবে।

এদিকে একই দিনে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে উপহাস করে বলেন, “৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মার্কিন প্রশাসন হরমুজ প্রণালিতে এসে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলছে, যার পরিণতি ২০০৮ সালের চেয়েও বড় বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ডেকে আনবে।”

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনার একটি প্রধান জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্রণালির ভবিষ্যৎ। ইরানের দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে তেহরানকে এই জলপথের ওপর সার্বভৌমত্ব দিতে হবে। অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো একে আন্তর্জাতিক জলপথ উল্লেখ করে ইরানের দাবি প্রত্যখ্যান করেছে।

শনিবার (১৬ মে) ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি জানান, তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি বিশেষ ও পেশাদার রুট তৈরি করেছে, যা শিগগির উন্মোচন করা হবে।

তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়ায় কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করা পক্ষগুলোই উপকৃত হবে। জাহাজগুলোকে ফি দিতে হবে। ওয়াশিংটনের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর সমর্থকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না।”

আল-জাজিরার প্রতিবেদনের তথমতে, যুদ্ধের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে ইরানের সাধারণ জনগণকে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড ১১৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিগত এক বছরে চাল, ডাল, মুরগি ও রান্নার তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তিন গুণ বেড়েছে। খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান রেকর্ড পতন ঘটে প্রায় ১.৮ মিলিয়নে (১৮ লাখ রিয়াল) ঠেকেছে।

ইরান বলছে, আমেরিক সঙ্গে বিশ্বাসের অভাবই আলোচনায় দৃশ্যমান ফলাফল না আসার প্রধান বাধা, যা গত মাসে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে, শুক্রবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ব্রিকস বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি সাংবাদিকদের জানান, তেহরান বেইজিংয়ের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানায়।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading