​”সন্ত্রাসী ও দখলবাজদের হুশিয়ারি দিলেন এমপি সেলিম রেজা হাবিব”

​”সন্ত্রাসী ও দখলবাজদের হুশিয়ারি দিলেন এমপি সেলিম রেজা হাবিব”

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৭:৫৬

মাদক বিক্রি, সেবন এবং এদের পক্ষে স্থানীয়ভাবে শালিস বিচারে সম্পৃক্ত ও তদবীরকারীদের কঠোর হাতে দমনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ সহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন পাবনা-২ আসনের সাংসদ এ কে এম মেলিম রেজা হাবিব।

তিনি বলেন, আমার এলাকায় মাদকসেবী, বিক্রেতা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলবাজদের ঠাঁই হবে না। এসব নির্মুলে ২টি অভিযোগ বক্স থাকবে। অভিযোগ ধরে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হট নাম্বার দেয়া হবে। আমার সাথে যারা রাজনীতি করেন তাদের কেউ যদি এসব অপরাধের সাথে জড়িত থাকেন, তাদের জায়গা আমার কাছে হবে না।

রবিবার (০৫ জুলাই) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সুজানগর বাজারে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাদক বিক্রেতা, মাদকসেবী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজ প্রতিরোধে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিবের নির্দেশনায় এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সুজানগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদি হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার মোঃ ছুফি উল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সেলিম রেজা হাবিব বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার মাদক নির্মূলে কাজ শুরু করেছে। প্রায় ৪ মাসে কোন পরিপত্র জারী ছাড়াই দেশ পরিবর্তনে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান৷ নিজেদের নীতি নৈতিকতার পরিবর্তন না হলে সমাজের অসংগতি দূর করা সম্ভব নয়।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আমরা মানবিক প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি দাবি করে সেলিম রেজা হাবিব বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ আমাদের কুক্ষিগত করতে চায়। কিন্তু সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন সাহসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজ তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ভালো কাজ করাতে হলে আমাদের মানবিক হতে হবে। মাদক, সন্ত্রাসী নির্মূল করতে হবে। তবেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের চাহিদানুযায়ী দেশ পরিচালনায় সক্ষম হবেন।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সেলিম রেজা হাবিব বলেন, নির্বাচনী এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মূলে পৃথক তিনটি কমিটি করে দিয়েছি। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ অভিযোগ সম্পৃক্ততা আছে তাদের কমিটিতে স্থান নেই। মাদক, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতাদের আলাদা আলাদা তালিকা তৈরী করা হয়েছে। তালিকা ধরে প্রশাসনের মাধ্যমে আইনী প্রয়োগ করা হবে।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রশাসনের মধ্যে বিরোধপূর্ণ যারা ঘাপটি মেরে আছে, তাদের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। রাজনৈতিকভাবে আমাদের প্রতিহিংসা নেই। কেউ প্রতিহিংসার শিকার হবে না। হতে দেয়া যাবে না। কেউ যদি কাউকে প্রতিহিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সেই নেতা কর্মীর বিএনপি করার দরকার নেই। তাদের দল থেকে বের করে দেয়া হবে।

নাগরিক সমাবেশের সভাপতি জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারি চাকরি করি। আইন আছে। আইন প্রয়োগ করতে গেলে রাজনৈতিক পর্যায়ে ঐক্যমত থাকতে হয়। কিন্তু মাদক নির্মূলে এই সমস্যা প্রকট দেখা দেয়। মানুষের গণজোয়ার থাকলে খুব দ্রুত মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের নির্মূল করা সম্ভব হয়। আমরা ভিকটিম হওয়ার আগেই মাদক সমূলে নির্মূল করতে সকল পর্যায় থেকে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, পাবনায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স চলছে। গত দুই মাসে সহস্রাধিক মাদকসেবী ও বিক্রেতা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সংক্ষিপ্ত বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। মাদক ও জুয়ায় সংক্ষিপ্ত বিচারে জেল নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের সাথে সমন্বয় করেই আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের শক্ত হাতে মাদক দমনে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তান শিক্ষার্থীদের শাসনে রাখতে হবে। ধর্মীয় অনুসাশন মেনে চলতে হবে। তা না হলে আমাদের সন্তানরা মানুষ না হয়ে বন মানুষ হবে। তাদের মাদক ও অপরাধ সম্পর্কে অবহিত করুন। মাদককে নির্বাসনে পাঠাতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

নাগরিক সমাবেশে শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন, সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা পাবনার উপপরিচালক তৌফিক ইকবাল, জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মাহবুবুর রহমান সরকার, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহিদুল মান্নাফ কবির, বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোনাল্ড চাকমা, জিপি অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম, পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা র‍্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার ওয়াহিদুজ্জামান, সুজানগর সার্কেলের এএসপি সাদেক আহমেদ, সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: আলাউদ্দিন, সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আজম আলী বিশ্বাস, সাবেক সম্পাদক হাজারী জাকির হোসেন চুন্নু, সুজানগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এবিএম তৌফিক হাবিব, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন বিশ্বাস, বেড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রইচ উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদুল আলম নান্নু, সাবেক সহসভাপতি শামসুর রহমান সমেজ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফর রহমান, বেড়া পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আকছেদ আলী প্রমুখ।

ইউডি/রেজা/রহমান

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading