কক্সবাজারে হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন ৫০ হাজার পর্যটক

কক্সবাজারে হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন ৫০ হাজার পর্যটক

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) ২০২৬, আপডেট ২০:২০

টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ ও উত্তাল সাগরের প্রভাবে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। গত চার দিনে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক তাদের হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন। এ অবস্থায় লোকসানে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা। 

গত দুই দিন সৈকত এবং আশপাশের কয়েকটি হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউস ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ শতাধিক হোটেলের প্রায় অর্ধেক কক্ষ খালি পড়ে আছে। সমুদ্রসৈকতেও পর্যটকের উপস্থিতি কম। সৈকতসংলগ্ন কয়েকশ দোকানপাট ও পর্যটননির্ভর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাত্র চার দিনেই কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‌‘টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। একইসঙ্গে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে বাস যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। গত চার দিনে জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তাদের অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছেন। এতে বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন হোটেল মালিকরা।’

বৃহস্পতিবার লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে পুরো সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ। পর্যটকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যারা এসেছেন, তারাও বৃষ্টির কারণে বেশিক্ষণ সৈকতে অবস্থান না করে দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। সৈকতের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। খোলা থাকা দোকানগুলোতেও নেই ক্রেতার আনাগোনা। ঝালমুড়ি, চটপটি, বিচ বাইক, কিটকট (চেয়ার-ছাতা), ঘোড়ায় চড়াসহ প্রায় সব ধরনের পর্যটননির্ভর ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত পয়েন্টেও।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর বলেন, ‘টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন শিল্পে। গত চার দিনেই কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।’

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading