ধানমন্ডিতে জোড়া খুন – বাসা থেকে বের হতে নিষেধাজ্ঞা!
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৫ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪০
ধানমণ্ডিতে জোড়া খুনের মামলায় গ্রেপ্তার সুরভী আক্তার নাহিদা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বলেছেন, ‘বাসা থেকে বের হতে বাধা দেওয়ায়’ ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহেল কাফি বলছেন, সুরভীর বক্তব্য শুনে তার ‘মানসিক ভারসাম্য নিয়ে সন্দেহ’ তৈরি হয়েছে তাদের।
গতকাল সোমবার (৪ নভেম্বর) তিনি বলেন, ‘মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে। তারা সবগুলো দিকই খতিয়ে দেখবে।’ গত শুক্রবার রাতে ধানমণ্ডির ২৮ নম্বর (নতুন ১৫) রোডের এক ভবনের পঞ্চম তলা থেকে গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান টিমটেক্স গ্রুপের এমডি ও ক্রিয়েটিভ গ্রুপের ডিএমডি কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি আফরোজা বেগম (৬৫) এবং তার গৃহকর্মী দিতির (১৮) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের দুজনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়। আফরোজা ও গৃহকর্মী যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, আর তার উল্টো দিকের ফ্ল্যাট এবং তার ঠিক উপরে ছয়তলার ফ্ল্যাট নিয়ে ডুপ্লেক্সে বাসায় স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকেন আফরোজার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গৃহকর্মীকে প্রধান আসামি করে কর্মচারী বাচ্চু ও নিরাপত্তাকর্মী নুরুজ্জামান, কেয়ারটেকার বেলায়েত এবং প্রিন্স নামে এক বৈদ্যুতিক মিস্ত্রিকে সন্দেহভাজন করা হয়। এজাহারে বলা হয়, বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে মেয়ের ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মী দিতিকে নিয়ে আফরোজা নিজের ফ্ল্যাটে যান। সাড়ে ৬টার দিকে ফোনে না পেয়ে রুবা গৃহকর্মী রিয়াজকে খোঁজ নিতে পাঠান। পরে রিয়াজ গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় আফরোজাকে পড়ে থাকতে দেখেন। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেখানে সন্দেহভাজন সেই গৃহকর্মীকে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত একটি হাতলভাঙা ছুরি পাওয়া যায় ঘরের ভেতরে। আর বাসা থেকে একটু দূরে পাওয়া যায় একজোড়া রক্তমাখা জুতো, যা সেই গৃহকর্মীর বলে সন্দেহ করছিল পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের দুই দিনের মাথায় রোববার সন্ধ্যায় আগারগাঁও বস্তি থেকে ২৩ বছর বয়সী সুরভী আক্তার সুরভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনিই সেই সন্দেহভাজন গৃহকর্মী। গত রবিবার রাতভর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় জানিয়ে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, বাচ্চুই যে ওই বাসায় কাজে নিয়ে গিয়েছিল, সে কথা সুরভীও বলেছেন।
তবে বাচ্চুর আচরণ তার ‘ভালো লাগেনি’। ‘বাচ্চু বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর সুরভীও চলে যেতে চায়। তখনও ও্ই বাসার পুরনো গৃহকর্মী দিতি বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। তখন সুরভী রান্নাঘর থেকে নেওয়া ছুরি দিয়ে দিতির গলা, পিঠ আর বুকে আঘাত করে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।’ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বাচ্চু প্রথম থেকে অনেক তথ্য গোপন করেছেন। তিনি বলেছিলেন, সুরভীকে তিনি সেভাবে চিনতেন না। অথচ ঘটনার আগে ও পরে অন্তত অর্ধশতবার তাদের কথা হয়েছে।

