ইয়েমেনে সরকার-বিরোধীদের চুক্তি ক্ষমতার ভাগাভাগি!
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৭ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:৪৮
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেন। ‘রিয়াদ চুক্তি’ নামের এই চুক্তির স্বাক্ষরের ফলে ইয়েমেনের ক্ষমতা ভাগাভাগি করবে উভয় পক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে’র খবরে বলা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি আরব সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আবেদ রাব্বু মনসুর হাদির সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের দীর্ঘ এক মাসের পরোক্ষ আলোচনার অবসান ঘটলো। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরকার ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ঐক্যবদ্ধ হলেও তারা একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল। সৌদি আরবের রিয়াদ টিভিতে চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সৌদি যুবরাজ বলেন, যুদ্ধের অবসানে আল্লাহর ইচ্ছায় ইয়েমেনের সব পক্ষ রাজনৈতিক সমাধানের পৌঁছার জন্য বৃহত্তর আলোচনার পথ উন্মুক্ত হবে। উভয়পক্ষ সম্মতিতে পৌঁছায় সৌদি আরবের জন্য তা আনন্দের দিন। যুবরাজ আরও বলেন, এই চুক্তির ফলে ইয়েমেনে স্থিতিশীলতার নতুন অধ্যায় শুরু হবে। সৌদি আরব আপনাদের পাশে রয়েছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে বিচ্ছিন্নতবাদীরাও সরকারে সমান অনুপাতে অন্তর্ভুক্ত হবে। তাদের সশস্ত্রবাহিনীকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
সব সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীকে প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা হবে। ব্রাসেলসভিত্তিক থিংকট্যাংক ক্রাইসিস ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ পিটার সালিসবুরি বলেন, এই চুক্তির যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয় তাহলে দুটি স্বল্পমেয়াদি সমস্যার সমাধান হবে। প্রথমত এর ফলে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও হাদির সরকারের যুদ্ধের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাবে এবং হুথিদের সঙ্গে ভবিষ্যতে দরকষাকষিতে সরকার আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে। সালিসবুরি সতর্কতার কথা উল্লেখ করে জানান, চুক্তিটিতে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে এবং বাস্তবায়নের জন্য উচ্চাভিলাষী সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

