আমেরিকা-উ. কোরিয়া আলোচনার ভবিষ্যত্ কী?

আমেরিকা-উ. কোরিয়া আলোচনার ভবিষ্যত্ কী?

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৭ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:৫০

উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ক আলোচনার সম্ভাবনা ক্রমেই ‘ক্ষীণ’ হয়ে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্র দফতর উত্তর কোরিয়াকে একটি সন্ত্রাসবাদী দেশ হিসেবে ফের আখ্যায়িত করার পর গত মঙ্গলবার পিয়ংইয়ং একথা বলেছে। এর ফলে ওয়াশিংটনের প্রতি আবারও অসন্তুষ্টি প্রকাশ ঘটালো দেশটি। নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা প্রশ্নে অসম্মতির প্রেক্ষাপটে গত ফেব্রুয়ারিতে কিম জং উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার হ্যানয় সম্মেলন ভেঙ্গে যাওয়ার পর এ আলোচনা প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে পিয়ংইয়ং তাদের পরমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগে আগ্রহী। এ বছরের শেষ নাগাদ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ওয়াশিংটনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছে পিয়ংইয়ং। তবে একই সঙ্গে তারা একের পর এক তাদের বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। গত মাসে উত্তর কোরিয়া সুইডেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর পর্যায়ের পরমাণু আলোচনা থেকে বেরিয়ে এসে বলেছে, তারা ওয়াশিংটন প্রস্তাবিত ‘নতুন ও গঠনমূলক’ সমাধানের অনীহায় অসন্তুষ্ট। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক এক প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়াকে একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে আবারও আখ্যায়িত করা হয়। দেশটি ‘বিদেশের মাটিতে গুপ্তহত্যা ঘটিয়েছে’ বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। উত্তর কোরীয় নেতা কিমের সত্ ভাই কিম জং নাম ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালা লামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ এ গুপ্তহত্যায় পিয়ংইয়ংয়ের হাত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়। তবে গত এপ্রিলে মালয়েশিয়ার প্রসিকিউটররা এ হত্যা মামলার অভিযোগ থেকে ভিয়েতনামের এক নারীর নাম বাদ দেয়। এ নারী প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন। এদিকে উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন তথ্যের নিন্দা জানিয়ে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও উস্কানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। উত্তর কোরীয় মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এমন দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থানের কারণে পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীণ হয়ে আসছে। গত বছর পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ এবং আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা না চালানোর ঘোষণা দেয় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয় একটি পারমাণবিক স্থাপনা। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বৈঠক কোনও চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। কিম বাজে চুক্তির প্রস্তাব করেছেন এমন অভিযোগ করে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading