বেশি মাংস খেলে যা হয়

বেশি মাংস খেলে যা হয়
raw meat assortment - beef, lamb, chicken on a wooden board

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৮ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:২৬

প্রত্যেক মানুষের ডায়েটে রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। কেউ মাংস বেশি খায়, কেউ আবার শাকসবজি কিংবা ফলমূল। মাংসে রয়েছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যা আমাদের শরীরের জন্য দরকারী- কিন্তু অত্যধিক মাংস ভোজন স্বাস্থ্যের ওপর নানাধরনের বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, এমনকি সৃষ্টি করতে পারে প্রাণঘাতী ক্যানসারও। তাই মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদেরকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ও অত্যধিক মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এখানে অত্যধিক মাংস খাওয়ার ১১টি প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হলো।

ঘুম ঘুম ভাব অনুভূত হয়: শক্তি যোগানোর জন্য প্রোটিন পরিচিত। তাই আপনি বিস্মিত হতে পারেন যে অত্যধিক মাংস খাওয়ার পর কেন ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব অনুভূত হয়। এর কারণ হচ্ছে, আপনার শরীরে থাকা প্রোটিন হজম হতে সময় লাগে- তাই আপনি তাত্ক্ষণিক শক্তি পান না। ফলাফল: ক্লান্তি ও কুয়াশাচ্ছন্ন মস্তিষ্ক।

কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে: মাংসে আঁশ থাকে না, যা আপনি সাধারণত ফল, শাকসবজি ও গোটা শস্য (হোল গ্রেন) থেকে পেয়ে থাকেন। কোষ্ঠকাঠিন্য ও যন্ত্রণাদায়ক বাওয়েল মুভমেন্ট বা মলত্যাগ হচ্ছে আঁশের ঘাটতির প্রথম লক্ষণ, বলেন ব্র্যাডক। গোটা শস্যের মতো স্বাস্থ্যকর কার্বস অথবা ফল ও শাকসবজি খেয়ে আপনার সিস্টেমকে আবারো নিয়মিত করুন।

হার্ট ঝুঁকিতে থাকতে পারে: আঁশের অন্য একটি উপকারিতা হচ্ছে, এটি আপনার শরীরকে কোলেস্টেরল শোষণ থেকে দূরে রাখতে পারে, যা আপনার হার্টকে রক্ষা করতে পারে। যদি আপনার মাংস নির্বাচন লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস হয়, তাহলে আপনার হার্টের ওপর খুব নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ধরনের মাংসে প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে যা খারাপ এলডিএল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে, যার ফলে হূদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়: অত্যধিক প্রোটিন কিডনির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, প্রাণীজ প্রোটিন পিউরিন নামক কম্পাউন্ডে পূর্ণ থাকে যা ভেঙে ইউরিক অ্যাসিডে পরিণত হয়- অত্যধিক ইউরিক অ্যাসিড কিডনি পাথরের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, বলেন প্যাসেরেলো। অধিকাংশ লোকের প্রোটিন ভাঙতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না- কিন্তু যদি আপনার কিডনি সমস্যার পারিবারিক ইতিহাস থাকে, তাহলে প্রোটিন গ্রহণের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়: গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ১৮ আউন্সেরও বেশি লাল মাংস ভোজন কোলরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে; নিয়মিত যেকোনো পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত মাংস ভোজন পাকস্থলি ও কোলরেক্টাল ক্যানসার বিকাশের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে, আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যানসার রিসার্চ অনুসারে। এসব খাবারের স্যাচুরেটেড ফ্যাটের সঙ্গে ক্যানসার সংযোগ থাকতে পারে, বলেন প্যাসেরেলো। ডায়েট থেকে গরুর মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস কমিয়ে পোল্ট্রি অথবা লেগিউমের মতো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খাওয়ার চেষ্টা করুন। তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading