ইন্ডিয়ায় নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ বিক্ষোভ সংঘর্ষ অব্যাহত

ইন্ডিয়ায় নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ বিক্ষোভ সংঘর্ষ অব্যাহত

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪৪

উত্তর প্রদেশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫

ইন্ডিয়ার বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনবিরোধী চলমান বিক্ষোভে উত্তর প্রদেশে গত শুক্রবার আরও ৯ জন নিহত হয়েছে। রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, এনিয়ে বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট ঘটনায় রাজ্যে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ জনে। পুলিশের দাবি, শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তবে নিহতদের কেউই পুলিশের গুলিতে মারা যায়নি। গুলির ঘটনা ঘটে থাকলে তা বিক্ষোভকারীদের দিক থেকে হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক ওপি সিং। ভারতে গত ১২ ডিসেম্বর কার্যকর হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ)। এতে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আইনটিকে মুসলিমবিরোধী আখ্যা দিয়ে ভারতজুড়ে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ চলছে। বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে উত্তর প্রদেশ। বৃহস্পতিবার উত্তর প্রদেশের লক্ষে্ণৗ ও সামবালে বিক্ষোভে সহিংসতায় তিন জন মারা যাওয়ার পর গত শুক্রবার পুরো উত্তর প্রদেশই থমথমে হয়ে পড়ে। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৩৫০ জনকে আটক করে পুলিশ। জুমার নামাজ ঘিরে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সভা সমাবেশের ওপর জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। তা অমান্য করে নামাজের পর রাজ্যের ১৩টি জেলায় শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্য পুলিশের তরফে ছয় বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। পরে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর দেয় প্রশাসন। এর মধ্যে তিন জন মিরাটে, দুই জন বিজনরে আর বারানসি, ফিরোজাবাদ, সামবাল ও কানপুরে এক জন করে নিহত হয়েছে। রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক ওপি সিং বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের দিকে আমরা একটা গুলিও ছুড়িনি। কোনও গুলি চললে তা বিক্ষোভকারীদের দিক থেকে হয়েছে। তিনি বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। প্রসঙ্গত, ভারত জুড়ে চলা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে উত্তর প্রদেশে। এছাড়া দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামেও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading