ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির ভরাডুবির আভাস
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৫৮
ইন্ডিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল আসতে শুরু করেছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ ভোট গণনা শুরু হয়। এতে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে পিছিয়ে রয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি। ওই রাজ্যে বিধানসভায় মোট আসন ৮১টি। সরকার গড়তে প্রয়োজন ৪১টি। গণনার শুরুতেই ৪০ আসনে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস-জেএমএম জোট। ৩১টিতে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এর আগে বুথফেরত জরিপেও এগিয়ে রাখা হয়েছিল কংগ্রেস-আরজেডি-জেএমএম জোটকে। ফলে ঝড়খণ্ডে এবার বিজেপির ভরাডুবি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবশ্য শুধু এবারই নয়, গত এক বছরে একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বিজেপি। হাতছাড়া হয়েছে রাজস্থান, ছত্তীসগড়, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র। হরিয়ানায় কোনওভাবে ক্ষমতা ধরে রেখেছে গেরুয়া শিবির। এমন পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ডের ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ২০০০ সালে গঠিত এই রাজ্য গত মাসেই ২০ বছরে পা দিয়েছে। এটি রাজ্যের চতুর্থ বিধানসভা নির্বাচন। বিদায়ী বিধানসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত পাঁচ বছর রাজ্য শাসন করেছে বিজেপি। কিন্তু এবার দৃশ্যত ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-কংগ্রেস-আরজেডি জোট বিজেপি-র চেয়ে বেশি আসন পেতে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র জোটসঙ্গী ছিল আজসু (অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন)। এবার তারা আলাদা ভাবে লড়েছে। দলের সভাপতি সুদেশ মাহাতো বলেছেন, ভোটের পর পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা জোট এবং জোটসঙ্গীর কথা ভাববেন। ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় মোট আসন ৮১। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বেরোনো ফলে বিজেপি জিতেছিল ৩৭ আসনে। জোটসঙ্গী আজসু পেয়েছিল পাঁচটি আসন। ম্যাজিক ফিগারের থেকে একটি আসন বেশি ছিল জোটের। কিন্তু ২০১৫-র গোড়াতেই জেভিএমের ছয় বিধায়ক বিজেপিতে চলে আসার পর, বিজেপি একাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায় বিধানসভায়। ঝাড়খণ্ডের ইতিহাসে সেই প্রথম, বিধানসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় কোনও দল। রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো টানা পাঁচ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন রঘুবর দাস।

