‘যুদ্ধ প্রতিরোধে’ সংলাপ চায় ইরান
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৭ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৮ঃ১০
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, তিনি যুদ্ধ এড়িয়ে যেতে চান। জানুয়ারির গোড়ার দিকে তেহরান ও ওয়াশিংটন এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে রুহানির প্রচারণা একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তেহরান এবং পশ্চিমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উচ্চ উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বলেন, বিশ্বের সঙ্গে সংলাপ এখনো ‘সম্ভব’। দেশটির টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে রুহানি বলেছেন, ‘সরকার প্রতিদিন সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে।’
জানুয়ারির গোড়ার দিকে মার্কিন ড্রোন হামলায় বাগদাদে ইরানের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলায়মানি নিহত হওয়ার কিছুদিন পর ইরান ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাটিতে সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও দেশটির সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুসারে, ওই হামলায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানী ঘটেনি।
উত্তেজনার মধ্যে বৃহস্পতিবার রুহানি বলেন, ‘ইরানের মধ্যপ্রাচ্য সামরিক কৌশলের’ কারিগর কাসেম সোলায়মানি হত্যার ‘ক্ষতিপুরণস্বরূপ’ ওই হামলা চালানো হয়েছিল। ইরান মার্কিন প্রতিহিংসার ব্যাপরে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে গিয়ে ওই হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ভুলবসত ইউক্রেনের যাত্রিবাহী বিমান ভূপাতিত করে এবং মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় বিমানে আরোহণ করা ১৭৬ যাত্রির সকলে নিহত হয়। যাত্রিদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল ইরান ও কানাডার নাগরিক।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ওই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য ইরানকে চাপ দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। ফ্রাঙ্কোইস- ফিলিপ চ্যাম্পেইঞ্জ ল-নে বলেছেন, ‘পরিবার জবাব চায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জবাব চায়, বিশ্ব জবাবের প্রতীক্ষায়, জবাব না পাওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না।’ কানাডার এমন কঠোর অবস্থানে রুহানির বক্তব্যও নরম ছিল এদিন।

