সুপারির চারায় ভাগ্য বদল
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ।০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ১৯ঃ১৫
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের হংসরাজ গ্রামের কৃষক আশরাফুল আলম। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সুপারির চারা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। তার উৎপাদিত নার্সারির সুপারির চারা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আশরাফুলের মতো ওই এলাকার অনেক কৃষকেরই ভাগ্য বদল হয়েছে সুপারিসহ নানা জাতের গাছের চারা উৎপাদন করে। আশরাফুল আলম বলেন, ‘২০১৯ সালে ৪০ শতাংশ জমিতে সুপারির নার্সারি করি। সার, বীজ, সেচ, পরিচর্যা ও পরিবহন খরচ বাদে ওই চারা বিক্রি করে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় হয়।’ তিনি বলেন, ‘একটি সুপারির চারা উৎপাদনে খরচ হয় ছয় থেকে আট টাকা। সেই চারা ৬ থেকে ১২ মাসের মাথায় বিক্রি হয় ২৫-৩০ টাকায়।’ একই এলাকার কৃষক সুবক্তগীন অনিকেতের (৪৫) পরামর্শে সুপারির চারা উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন আশরাফুল। সরেজমিনে চারা বাগানে কাজ করতে দেখা যায় তাকে। সেখানে মাটির বেডে বীজ বপন ও বেড প্রস্ততের কাজ করছিলেন তিনি। ছয় ইঞ্চি পরপর বপন করা হয় সুপারির বীজ। সেই বীজ থেকে চারা হয়। ওই চারা ছয় মাস থেকে এক বছরের মাথায় বিক্রি শুরু করা হয়। এই কৃষক বলেন, ‘নার্সারি একটি লাভজনক ব্যবসা। অনিকেত ভাইয়ের পরামর্শে সুপারি, তেজপাতা, লং, দারুচিনি, এলাচসহ ছয় প্রজাতির গাছের নার্সারি করেছি। এতে কোনও লোকসান নেই।’ এলাকাবাসী জানান, নার্সারি করে আশরাফুল বসতবাড়ির জন্য সম্প্রতি ১০ শতাংশ জমি কিনেছেন। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া খরচ ও ভাতের জন্য তাকে আর চিন্তা করতে হয় না।

