গাজরে ভাগ্য বদল চাঁন মিয়ার
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ।১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ১৫ঃ২৭
একটা সময় সিংগাইরের চর দূর্গাপুর গ্রামের চাঁন মিয়ার (৫০) দিন চলতো অভাব-অনটনে। ছিল টানাটানির সংসার। এখন তিনি সচ্ছল। গাজর চাষে পাল্টে গেছে চাঁন মিয়ার ভাগ্য। গাজর চাষ করেই তিন মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছেন। সম্প্রতি ওই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় চাঁন মিয়ার। তিনি জানালেন, ১২ বছর ধরে গাজর আবাদ করছেন। প্রথম দিকে অল্প জমিতে চাষ শুরু করেন তিনি। লাভ হওয়ায় ধীরে ধীরে তিনি গাজর চাষের পরিমাণ বাড়াতে শুরু করেন। চলতি বছর তিনি ২০ বিঘা জমিতে গাজর চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে আট বিঘার মতো জমির গাজর বিক্রি করেছেন। ফলন ও দাম-দুটোই ভালো পেয়েছেন।
সিংগাইরের জয়মন্টপ ইউনিয়নের অনেকে গাজর চাষ করেন। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এ ফসলের আবাদ করেন। যাদের জমি নেই তারা অন্যের বর্গা নিয়ে গাজর আবাদ করে লাভবান হয়েছেন। কথা হয় দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক জাহেদ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, চলতি বছর সাত বিঘা জমিতে গাজর চাষ করেছেন। জমি তৈরি,গাজরের চারা, এবং কীটনাশক বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। আর তিন মাসে তিনি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা আয় করেছেন। গাজর পরিপক্ক হওয়ার পর ক্ষেত থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।
ভাকুম গ্রামের হুকুম আলী গত ২৫ বছর ধরে গাজর চাষ করছেন। তিনি বলেন, অন্য সবজির চেয়ে গাজর চাষে শ্রম কম দিতে হয়, দামও ভালো পাওয়া যায়। এবার ৯ বিঘা জমিতে গাজর আবাদ করেছেন। চাঁন মিয়া, জাহেদ আলী আর হুকুম আলীর মতো পার্শ্ববর্তী চর দূর্গাপুর গ্রামের আবদুল হান্নান, আক্কাস আলী, ভাকুম গ্রামের জালাল শিকদার, সুরুজ বেপারী, গোলাম নবী, আজিমপুর গ্রামের দুলাল শেখসহ অনেকেরই গাজর চাষে দিন বদলে গেছে।

