বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ৫ লক্ষাধিক, দিনে আক্রান্ত হচ্ছে ১ লক্ষ!
উত্তরদক্ষিণ ২৭ মার্চ ২০২০ । ১৪:০০
হানজালা শিহাব: বিশ্বে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা; একদিনে ৪০ হাজার বেড়ে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। বাড়ছে আক্রান্ত দেশের সংখ্যাও। এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৯টি দেশে প্রাণঘাতি করোনার আক্রমণ হয়েছে। আক্রান্তদের ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ৯০ জনের। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যা লক্ষাধিক। ওয়ার্ল্ডওমিটারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য এটি।
অপরদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা বা কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়া সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত চারদিনে আক্রান্ত হয়েছে ৪ লক্ষ। অর্থাৎ বিশ্বে প্রতিদিন কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে আমেরিকা। সেদেশে ৮৫ হাজার ৫৯৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ট্রাম্পের দেশে প্রাণ হারিয়েছে ১৩০০ মানুষ। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৮৬৮ জন। চীনে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৮১ হাজার ৩৪০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৯২ জনের। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭৪ হাজার ৫৮৮ জন। আক্রান্তের সংখ্যার দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও করোনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ইতালিতে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজারের বেশি মানুষের। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৫৮৯। সুস্থ হয়েছে ১০ হাজার ৩৬১ জন। স্পেনে আক্রান্ত হয়েছে ৫৭ হাজার ৭৮৬ জন। প্রাণ হারিয়েছে ৪ হাজার ৩৬৫ জন।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর ৬টার পর থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সারাবিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৪৫৪ জন। এর মধ্যে কমপক্ষে ১৫৯ জনই আমেরিকান, চীনের ৫৫ জন, দক্ষিণ কোরিয়ার ৯১, ইন্ডিয়ায় ৬ জন, মেক্সিকোর ১১০ জন, কাজাখস্তানের ৮ জন, ক্যামেরুনের ১৩ জন, প্যারাগুয়ের ১১ জন ও ভুটানের ১ জন। এদিকে, শুক্রবার ১২টা পর্যন্ত পূর্বের ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে নতুন করে দুই চিকিৎসকসহ ৪ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের আইইডিসিআর।
মার্কিন জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে দেওয়া হালনাগাদ তথ্যের বরাত দিয়েছে অবশ্য বিবিসির খবরে বলা হয়, বিশ্বের ১৭৫টি দেশ ও অঞ্চলে বিস্তৃত হয়ে ৫ লাখ ১১ হাজার ৬০৩ জনকে আক্রান্ত করেছে নভেল করোনাভাইরাস। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটেছে ২৩ হাজার ৬৭ জনের; আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯৮৩ জন। ইউরোপ ও আমেরিকায় ব্যাপক সংক্রমণে পর বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসাস গত সোমবারই দেখিয়েছিলেন, কত দ্রুতগতিতে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। নভেল করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর তা লাখ ছাড়াতে সময় লেগেছিল ৬৭ দিন। রোগীর সংখ্যা এক লাখ থেকে দুই লাখে যেতে সময় লেগেছে ১১ দিন। এরপর চারদিনেই রোগীর সংখ্যা ২ লাখ থেকে ৩ লাখে পৌঁছে যাওয়া নিয়েই উদ্বেগ দেখিয়েছিলেন গ্যাব্রিয়েসাস। এখন চার দিনে রোগীর সংখ্যা চার লাখের গণ্ডি ছাড়িয়ে ৫ লাখও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ প্রতি দুদিনে ১ লাখ আক্রান্ত হচ্ছে।
গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরের একেবারে শেষ দিকে চীনের উহান শহরে প্রথম নতুন ধরনের এই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। অন্য প্রদেশগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার পর ভিন্ন দেশেও ভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। তখন এই ভাইরাসের নাম দেওয়া হয় নভেল করোনাভাইরাস, আর এর ফলে সৃষ্ট রোগ নাম পায় কোভিড-১৯; যার লক্ষণ জ্বর, মাথাব্যথা ও শ্বাসজনিত সমস্যা।
শুরুতে চীনে মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকলেও মাস দুয়েকের মধ্যে তারা পরিস্থিতি অনেকটাই সামলে নিয়ে ফেলে। চীনের পর প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়া এবং এরপর ইতালিতে মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে। কোরিয়া পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণ আনতে পারলেও ইউরোপ বিপর্যস্ত হওয়ার পর এখন পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে আমেরিকা।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৯টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সারা বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৩২ হাজার ২৬৩ জন। মুত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ৯০ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৪৯ জন।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনা ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ১১ মার্চ পৃথিবীব্যাপী মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে ছাড়াতে না পারলেও মৃতের সংখ্যায় ছাড়িয়ে যাওয়া ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭১২ জনের মৃত্যু ঘটেছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৫০ জন বেশি। এনিয়ে ইতালিতে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৮ হাজার ১৬৫ জনে। সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৫৩৯ জন। স্পেনেও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে ইতালির মতোই। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আরও ৬৫৫ জনের মৃত্যু নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৪৫ জনে। স্পেনের আক্রান্ত ৫৬ হাজার ১৯৭ জন। আমেরিকায় হু হু করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে এখন স্পেনকে ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে ৭৫ হাজার ২৩৩ জন কোভিড রোগী ধরা পড়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১ হাজার ৯৩ জন।
এদিকে, ব্রিটেনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১০ হাজার ছুঁই ছুঁই করছে, এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৭৭ জনের। চীনে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৮১ হাজার ৭৮২, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৯১ জনের। মৃতের সংখ্যায় ইতালি, চীন ও স্পেনের পরে ইরান (২২৩৪) ও ফ্রান্সেই (১৩৩১) এক হাজারের বেশি রোগী মারা গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ রোগী ধরা পড়েছে পাকিস্তানে ১ হাজার ১৭৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ জন। ইন্ডিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা পাকিস্তানের চেয়ে কম (৭২৭) হলেও মারা গেছে ২০ জন। আর বাংলাদেশে ৪৮ জনের আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন ১১ জন।


One thought on “বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ৫ লক্ষাধিক, দিনে আক্রান্ত হচ্ছে ১ লক্ষ!”