করোনা আক্রান্ত প্রায় ৭ লাখ, একদিনেই মৃত্যু ৩৫১৬!
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন। ২৯ মার্চ ২০২০ । ১৩:০০
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরোসের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, শুধু শনিবারই (২৮ মার্চ) মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৫১৬ জন। যা এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনা বা কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৮৫৭ জনে। আর প্রাণঘাতি ও বিশ্বে মহামারি আকাছে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ছুঁই ছুঁই করছে।
ওয়ার্ল্ডওমিটারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য বলছে, বর্তমানে বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এক লাখ ৪২ হাজার ১৮৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মৃত্যু হয়েছে ৩০ হাজার ৮৫৭ জনের। অন্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
আলজাজিরা, বিবিসি ও সিএনএন-এর খবর অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ইউরোপের দেশ ইতালি। ইতালিতে মৃতের সংখ্যা দিন দিন হু হু করে বাড়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে মারা গেছেন ১০ হাজার ২৩ জন। ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি স্থান চীনকেও মৃত্যুর দিক থেকে পেছনে ফেলেছে ইতালির পর ইউরোপের আরেক দেশ স্পেন। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৮২ জন। চীনে মৃত্যু হয়েছে ৩২ হাজারের কিছু বেশি।
তবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মার্কিন আমেরিকা। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫০ জন। শনিবার একদিনে মৃত্যু হয়েছে ৫২৫ জন। মোট প্রাণহানি ঘটেছে ২ হাজার ২২৭ জনের। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইতালি। ৯২ হাজার ৭৪২ জন আক্রান্ত হন। ১০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আর স্পেনে সেই সংখ্যাটা ৫ হাজারের বেশি। ওয়ার্ল্ডওমিটারে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণে ব্রিটেনে শনিবার আরও ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। দেশটিতে মহামারি আকাছে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা এটি। এ নিয়ে ব্রিটেনে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯ জনে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হানকসহ ব্রিটেনে আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ১৭ হাজার ৮৯ জনে পৌঁছেছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্তদের তালিকায় রয়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের উত্তরাধিকার প্রিন্স চার্লসও।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেইপ্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। বৈশ্বিক এ মহামারিতে বেকায়দায় পড়েছে পুরো বিশ্ব। চীনে প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও ভাইরাসটিতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৮৮৯ জন। এদিকে ৫ হাজার ৯৮২ মৃত্যু নিয়ে স্পেনের অবস্থাও বিপর্যস্ত। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৩ হাজারের বেশি।
ইউরোপের প্রায় সব দেশ লকডাউন। আমেরিকার অর্ধেকের বেশি মানুষ গৃহবন্দী। এরকম লকডাউন চলছে এশিয়া ও আফ্রিকাসহ অন্যানা মহাদেশেও। এশিয়ার অবস্থাও নাজুক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে এশিয়াকে সতর্ক করে দিয়েছে। ইরানের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় যেখানে মারা গেছেন ১৩৯ জন। প্রতিদিন আরও হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। দেশটির অনেক আইনপ্রণেতা করোনায় আক্রান্ত।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত রোগী ৪৮ জন। সরকারি হিসাবে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। রবিবার পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫ জন। আইইডিসিআরের হিসাবে রবিবার সকাল পর্যন্ত আগের দুদিনে দেশে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি।

