আইসিইউতে কেমন আছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ০৯ এপ্রিল ২০২০। ১৩:০০
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গত মাসের ২৭ তারিখ থেকে প্রাণঘাতি নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর গত ৬ এপ্রিল তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের মতো সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস। এর দুদিন আগে অর্থাৎ ৪ এপ্রিল তাকে ওই হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে। সেদিনই তাকে হাসপাতালটিতে ভর্তি করা হয়। এর একদিন পর তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার জীবন নিয়ে এরই মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এমনটাই বলা হয়েছে। এরই মধ্যে ব্রিটেনে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে, বরিসের মৃত্যু হলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব কে পালন করবেন- তা নিয়েও। তবে এখন কেমন আছেন বরিস? তার বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা কতটুকু? এমন প্রশ্ন অনেকের?
বুধবার স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুনিয়র স্বাস্থ্যমন্ত্রী এডওয়ার্ড আরগার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বরিসের অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি ভালো আছেন। এর আগে সরকারের দায়িত্বে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমেনিক রাব বলেছেন, ‘তিনি একজন যোদ্ধা। তিনি ফিরে আসবেন।’ এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জানান, তার অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি ইনটেনসিভ কেয়ারে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ৫৫ বছর বয়সী জনসন স্বল্পমাত্রার অক্সিজেন চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি অন্য কোনও সহায়তা ছাড়াই নিঃশ্বাস নিতে পারছেন। তার ভেন্টিলেটরের কোনও প্রয়োজন নেই।
করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ১০ দিন পরও জনসনের শরীরে ভাইরাসের উপসর্গ থেকে যাওয়ায় গত রবিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন সোমবার সন্ধ্যায় তাকে ইনটেনসিভ কেয়ারে স্থানান্তর করা হয়। জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীকে ইনটেনসিভ কেয়ারে স্থানান্তর একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
গত বছরের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়া বরিস জনসনের অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা নেই বলে কর্মকর্তাদের ভাষ্য। এদিকে তার অন্তঃসত্তা বান্ধবী ক্যারি সিমন্ডসকে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ক্যারির করোনার উপসর্গ থাকার কারণে অন্যান্য স্টাফ অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। বরিসের গর্ভবতী বান্ধবী এক টুইট বার্তায় গত শনিবার জানিয়েছিলেন, তিনি করোনার প্রধান উপসর্গ নিয়ে শয্যাশায়ী। যদিও ওইদিন পর্যন্ত তার করোনা পরীক্ষা করানো হয়নি।
ওয়ার্ল্ডওমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনে এ পর্যন্ত ৬০ হাজারেরও বেশি লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন অন্তত ৭ হাজার ৯৭ জন। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার দেশটিতে একদিনেই মারা গেছেন ৭৮৬ জন।

