সবার জন্য প্রণোদনা- বীমা, আমাদের জন্য শোক!

সবার জন্য প্রণোদনা- বীমা, আমাদের জন্য শোক!

উত্তরদক্ষিণ ২৯ এপ্রিল ২০২০ । ২২:২০

জ. ই মামুন: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আজ মারা গেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কনস্টবল জসিম উদ্দিন। তার মৃত্যু করোনার অন্য পাঁচজনের মৃত্যুর চেয়ে আলাদা। কারণ তিনি কর্তব্য পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যেমনটা হচ্ছেন আমাদের চিকিৎসকরা। পুলিশের নতুন আইজি বেনজীর আহমেদ কনস্টবল জসিমের পরিবারকে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন এবং পুলিশ বাহিনী এই অসহায় পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে। পুলিশ বাহিনীকে আমার ধন্যবাদ।

তিন দিন আগে মারা গেছেন সিটি ব্যাংক কর্মকর্তা মুজতবা শাহরিয়ার। তরুণ ও মেধাবী এই কর্মকর্তা অসুস্থ অবস্থায় দু’দুবার করোনা টেস্ট করিয়েও নেগেটিভ রিপোর্ট পান। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এক দিনের মধ্যে মারা যান, আর মৃত্যু পরবর্তী টেস্টে তার রিপোর্ট আসে করোনা পজিটিভ। সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলেছে, শাহরিয়ারের পরিবারের জন্য তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি করবে। ধন্যবাদ সিটি ব্যাংক।

গত সপ্তাহে করোনাযুদ্ধের ফ্রন্ট লাইন ফাইটারদের মধ্যে প্রথম শহীদ হয়েছেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের সরকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন। তাঁর মৃত্যু নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গভীর শোকের এবং হতাশার। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে ডা. মঈনের পরিবারের পাশে থাকার এবং তার সন্তানদের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেছেন। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনায় দেশে প্রথম হাই প্রফোইল মৃত্যু দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক জালাল সাইফুর রহমানের মৃত্যু। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এই মেধাবী কর্মকর্তার মৃত্যু হয় এ মাসের ৬ তারিখ। তার অকাল মৃত্যু দেশবাসির পাশাপাশি শোক এবং হতাশায় স্তম্ভিত হয়ে যান প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে সরকার এবং তার ক্যাডারসহ পুরো প্রশাসন তার পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ধন্যবাদ সরকার, প্রশাসন এবং মরহুম জালালের সহকর্মীদের।

সরকারি কোনো কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত হলে ৫ থেকে ১০ লাখ এবং করোনায় মৃত্যুবরণ করলে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা পাবেন বলে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা সংক্রমিত হয়ে কেউ ঘরে থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও তিনি এই সহায়তা পাবেন আর হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বিনামূল্য চিকিৎসা পাবেন। তবে শুধুমাত্র প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি কর্মকর্তারা এই সুবিধা পাবেন। এজন্য আবারো ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সরকারকে।

এবার একটু ভিন্ন পেশার কথা। করোনা যুদ্ধের প্রথম শহীদ সাংবাদিক দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার নগর সম্পাদক হুমায়ুন কবির খোকন। গতকাল সন্ধ্যায় করোনার উপসর্গ নিয়ে তিনি উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি হন। রাত ১০ টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়। আজ সকালে তার রিপোর্ট আসে করোনা পজিটিভ।

২৪ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সরকার, কোনো মন্ত্রী, কোনো সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতা বা খোকনের পত্রিকার মালিক পক্ষের কারো মুখে শুনলাম না যে কেউ খোকনের পরিবার বা তার শিশু সন্তান দু’টোর দায়িত্ব নেবেন বা এই পরিবারটির পাশে থাকবেন।

সাংবাদিকরা সবার বীমা, প্রণোদনা এবং ঝুঁকি ভাতার সংবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু তারা কোনো ভাতা পাবেন না। বরং এই করোনাকালেও চাকরিচ্যুত হবেন, অনেকে নিয়মিত বেতন পাবেন না তবু তারা চোখ বুজে, ঘাড় গুঁজে কাজ করে যাবেন। ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত অফিস করবেন, বাইরে কাজ করবেন আর দেশের মানুষকে ঘরে থাকতে বলবেন। কারন তারা তথ্য সেবাদাস। তারা মারা গেলে দু’ একজন নেতা বা মন্ত্রী অবশ্য শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দেবেন। সেই বিবৃতি ঘরে বাঁধাই করে রেখে জীবন পার করবে মৃত সাংবাদিকের স্ত্রী/ স্বামী, পিতা মাতা বা সন্তান। আর কি চাই?

(লেখাটি এটিএন বাংলার বার্তা প্রধান জ. ই মামুনের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া)

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading