করোনার অভিজ্ঞতা জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ রবিবার ০৩ মে ২০২০। ১২:৫৫
নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ‘মারা গেলে’ কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বরিস জনসন। ওই সময় তাকে বাঁচিয়ে রাখতে ‘লিটার লিটার অক্সিজেন’ দেয়া হয়েছিল বলে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড সানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। রবিবার (৩ মে) সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে।
লন্ডনের সেইন্ট টমাস হাসপাতালে কাটানো এক সপ্তাহ তার মধ্যে অন্যদের দুর্ভোগ বন্ধ করা ও যুক্তরাজ্যকে ফের ‘সাফল্যের ধারায় ফিরিয়ে আনার’ আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে দেয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। ২৬ মার্চ জনসনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিন রাত তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকতে হয়।
সানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনসন তার ওই অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে আমার শরীর খারাপ হয়ে ওই পর্যায়ে চলে গিয়েছিল এটি বিশ্বাস করা কঠিন, সানকে বলেন বরিস। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেলে কী করতে হবে- চিকিৎসকরা তার সব ব্যবস্থা করে রেখেছিল। ‘অসাধারণ সেবার’ কারণেই তিনি সুস্থ হতে পেরেছেন বলে বরিস জনসন জানান। এখনও ভুগতে থাকা অন্য অনেকের তুলনায় নিজেকে ‘ভাগ্যবান’ বলেই অনুভব করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন, ‘অন্যদের দুর্ভোগ থামানোর বিষয়ে আমার মধ্যে কী কোনো আকাঙ্ক্ষা জেগেছে?’ হ্যাঁ, পুরোপুরি। তবে আরেকটি প্রবল আকাঙ্ক্ষাও আমাকে চালিত করছে। তাহলো আমাদের দেশকে আবার সাফল্যের ধারায় ফিরিয়ে আনা। ফের স্বাস্থ্যবান করে তোলা। আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে চলা আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা এটি পারবো।
আইসিইউতে মনিটরের সঙ্গে যুক্ত থাকা ও ‘ইন্ডিকেটরগুলোর উল্টো দিকে যাওয়া অব্যাহত আছে’ দেখা কঠিন ছিল বলে সংবাদপত্রটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন বরিস। বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন ছিল। এটি অস্বীকার করবো না। তিনি তখন ভাবতে থাকেন, আমি কীভাবে এ থেকে বের হবো?
বরিস জনসন ওই সাক্ষাৎকার দেয়ার আগে তার সদ্য সন্তান জন্ম দেয়া বান্ধবী ক্যারি সিমন্ডস জানিয়েছেন, তারা তাদের সদ্যোজাত ছেলের নাম রেখেছেন ‘উয়িলফ্রেড ল্যরি নিকোলাস জনসন’।
এই নামের মাধ্যমে তাদের দাদাদের ও করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে থাকাকালে যে দুই চিকিৎসক জনসনকে চিকিৎসা দিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে বলে ইনস্টাগ্রাম দেয়া এক পোস্টে লিখেছেন সিমন্ডস। জনসন আইসিইউ থেকে ছাড়া পাওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ পর গত বুধবার তাদের এ সন্তানটির জন্ম হয়। এরই মধ্যে বরিস জনসনও প্রধানমন্ত্রীর কাজে ফিরছেন বলে জানা গেছে।

