ইউরোপে করোনার সংক্রমণ ছিল ‘ডিসেম্বরেই’!
উত্তরদক্ষিণ মঙ্গলবার ০৫ মে ২০২০। ১৬:৫৫
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর এক ব্যক্তির নিউমোনিয়া শনাক্ত হয়। তার চিকিৎসক এখন বলছেন, সে নিউমোনিয়া ছিল আসলে করোনাভাইরাস। এর অর্থ হচ্ছে, আগে যা ধারণা করা হচ্ছিল, তার প্রায় একমাস আগেই করোনাভাইরাস ইউরোপে এসেছে।
ড. ইভস কোয়েন ফরাসি গণমাধ্যমকে বলেন, সেই রোগীর নাক এবং গলা থেকে যে লালা সংগ্রহ করা হয়েছিল- সেটি সম্প্রতি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। ওই পরীক্ষায় কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে।
সেই ব্যক্তি এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, তার দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ কিভাবে হয়েছে- সেটি তিনি বুঝতে পারছেন না। কারণ, তিনি কোনও সংক্রমিত এলাকায় যাননি। করোনাভাইরাসের বিস্তার কিভাবে হয়েছে- সেটি বুঝতে হলে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।
ড. কোয়েন প্যারিসের কাছে এভিসেন এন্ড জ্যঁ ভার্দিয়ে হাসপাতালের এমারজেন্সি মেডিসিনের প্রধান। অন্যদিকে আক্রান্ত সেই ব্যক্তির বয়স ৪৪ বছর। তিনি প্যারিসের উত্তর-পূর্বে বসবাস করেন। তার মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার উপসর্গ ছিল। কারণ তিনি শুষ্ক কাশি, জ্বর এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।
২৭ ডিসেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর চারদিন পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চীন অফিসকে জানানো হয় যে, উহানে অজ্ঞাত কিছু নিউমোনিয়ার সংক্রমণ পাওয়া গেছে।
ড. কোয়েন বলেন, ফ্রান্সের সেই ব্যক্তির দুই শিশু সন্তানও অসুস্থ হয়েছিল। তবে তার স্ত্রীর মধ্যে কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। ড. কোয়েন বলছেন, আক্রান্ত সে ব্যক্তির স্ত্রী শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরের কাছে একটি সুপার মার্কেটে কাজ করতেন। সেখানে কাজ করা অবস্থায় তিনি হয়তো চীন থেকে আসা কোনও ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন। আক্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রী জানান, প্রায় সময় বিমানবন্দর থেকে অনেকে তাদের মালামাল নিয়ে সে সুপার মার্কেটে আসতো।
ড. কোয়েন বলেন, আমরা ভাবছি, সে মহিলা হয়তো লক্ষণ-উপসর্গ বিহীন ছিলেন। এ বিষয়টি ভালো মতো তদন্ত করে দেখা উচিত বলেও মনে করেন ড. কোয়েন।
এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্সে প্রথম তিনটি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চিহ্নিত হয় ২৪ জানুয়ারি। এদের মধ্যে দু’জন ছিলেন উহান ফেরত এবং আরেকজন তাদের পরিবারের সদস্য। নতুন করে যে, রোগীর কথা বলা হচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে- ফ্রান্সে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি অনেকে আগেই হয়েছে। করোনাভাইরাস কীভাবে ছড়িয়েছে সেটি বোঝার জন্য এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর ফলে পুরো ধারণা হয়তো বদলে যাবে। সূত্র: বিবিসি।

