এক্সিমের মামলা, ন্যাশনাল ব্যাংকের পাল্টা অভিযোগ

এক্সিমের মামলা, ন্যাশনাল ব্যাংকের পাল্টা অভিযোগ

উত্তরদক্ষিণ বুধবার ২৭ মে ২০২০। ২৩:৫৬

এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও এএমডি-কে অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সিকদার ভাইদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে বক্তব্য দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ওই মামলার অভিযোগ নাকচ করে এক্সিমের বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক।

ন্যাশনাল ব্যাংকের এক পরিচালক রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে মামলার খবর প্রকাশের পর বুধবার (২৭ মে) ন্যাশনাল ব্যাংকের আইনি পরামর্শক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদারের বরাতে গণমাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য পাঠায় ন্যাশনাল ব্যাংক।ী ব্যাপারে সিকদার গ্রুপ এখনও মুখ খোলেনি।

এক্সিম ব্যাংকের এমড ই সহ শীর্ষ দু’ কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে সিকদার গ্রুপের এমডি এমডি রন হক সিকদার ও তাঁর ভাই পরিচালক দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে। ঘটনা গত ৭ মে’র। তবে মামলা হয়েছে গুলশান থানায় গত ১৯ মে। মামলাটি করেছেন এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম।

এক্সিমের মামলার এজাহারে দু’ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া এবং অতিরিক্ত এমডি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে অপহরণ করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। ঘটনার সময় ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি চৌধুরী মোসতাক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবি আবুল বাসেত মজুমদার

এতে দুই ভাইর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া এবং অতিরিক্ত এমডি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে অপহরণ করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন, গুলি ছুড়েছেন।

সিকদার গ্রুপের প্রস্তাবিত ঋণের বন্ধকী সম্পত্তির দাম কম হওয়ার কথা বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে রন ও দিপু অস্ত্রের মুখে গত ৭ মে পূর্বাচল থেকে বনানীতে সিকদার গ্রুপের অফিসে হায়দার ও ফিরোজকে তুলে নিয়ে সাদা কাগজে সই নিয়ে তারপর ছেড়েছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে ন্যাশনাল ব্যাংকের প্যাডে বাসেত মজুমদারের পাঠানো বক্তব্যে বলা হয়, রন হক এক্সিম ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা ‍ঋণ পেতে কোনো আবেদন করেননি। তিনি এক্সিম ব্যাংকের গুলশান এভিনিউ শাখায় যাননি, এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও এএমডির সঙ্গেও দেখা করেননি।

“সেই ক্ষেত্রে ঋণ এবং এই সংক্রান্ত জামানত নিয়ে দর কষাকষির কোনো সুযোগ আসতে পারে না। অদ্য মামলার বাদী উল্লেক্ষিত ঘটনার সাক্ষী নয়, মামলার এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও এএমডির সাথে আলোচনা না করে ব্যাংকের শুধু নির্বাহীদের সাথে কথা বলে ঘটনার ১২ দিন পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করেন, যাহা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি এবং মামলাটি শুধু আমার মক্কেলকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য দায়ের করা হয়।”

পাল্টা অভিযোগে বাসেত মজুমদার বলেন, “এক্সিম ব্যাংকের জনৈক পরিচালক ব্যবসা প্রসারের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রকারের ঋণ  সুবিধা গ্রহণ করে। জনৈক পরিচালক তার কন্যার নামেও ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে। জনৈক পরিচালক বেনামে ঋণ সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করেন।

“গুলশান থানায় মামলা নম্বর ৩ এর বাদী নিজেও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড থেকে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এসব ঋণের উপযুক্ত জামানত ব্যতিরেকে ঋণ প্রাপ্ত হইয়া বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে জনৈক পরিচালক ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিপুল অংকের ঋণ সুবিধা আবেদনের নিমিত্তে এ বছরের ১৩ মে পাঁচ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেন।”

ন্যাশনাল ব্যাংকের আইনি পরামর্শক বলছেন, “ভুয়া ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের জন্য আমি আমার মক্কেলের পক্ষ হইতে দৃঢ় প্রতিবাদ জানাই এবং আমার মক্কেলের দৃঢ় বিশ্বাস উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত হইবে এবং প্রকৃত দোষী (বাদী এবং এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ) কে আইনের ও ন্যায় বিচারের সম্মুখীন হইতে হবে।”

SekFaruk

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading