বিশ্বে প্রথম ঘোষণা : নিউজিল্যান্ডে করোনায় আক্রান্ত কেউ নেই!
উত্তরদক্ষিণ : সোমবার ০৮ জুন ২০২০ । ১২:১৬
করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মহামারি থেকে নিজেদেরকে মুক্ত ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড। সেদেশে কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত আর কোন রোগী নেই। এ কথা জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ একথা জানায়।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ নিউজিল্যান্ড-ই বিশ্বে প্রথম এ ঘোষণা দিল।
সোমবার (০৮ জুন) এএফপি’র পরিবেশিত এক খবরে জানা যায়, নিউজিল্যান্ডে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশটির সর্বশেষ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠায় তাকে আইসোলেশন থেকে ছেড়ে দেয়ার পর সেখানে করোনা রোগীর সংখ্যা শূণ্যের কোটায় নেমে এলো।
এ অবস্থায় সীমান্তের কড়াকড়ি ছাড়া বাকি সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অর্ডের্ন।
নিউজিল্যান্ড স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক আশলে ব্লুমফ্লিল্ড বলেন, এটি ছিল ‘প্রকৃতপক্ষে ভাল খবর’ এবং আন্তরিকভাবে খুশি হওয়ার মতো একটি খবর। আর এটি পুরো নিউজিল্যান্ডের জন্য একটি বিশাল অর্জন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে এই প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শূণ্যের কোটায় নেমে এলো। কোভিড-১৯ ভাইরাস মোকাবেলায় এটি আমাদের জন্য অবশ্যই একটি বড় অর্জন। তবে এর আগে আমরা বলেছি, কোভিড-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান সতর্কতা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।’
নিউজিল্যান্ড তাদের দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সফলতা অর্জনের জন্য প্রশংসিত হচ্ছে। দেশটিতে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এখানে সাত সপ্তাহের কঠোর লকডাউন আরোপ করা হয় যা গত মাসে শেষ হয়েছে।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ নিউজিল্যান্ডে করোনাভাইরাসে মোট ১ হাজার ১৫৪ জন আক্রান্ত হয় এবং এদের মধ্যে ২২ জন প্রাণ হারায়।
গত ১৭ দিন ধরে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোন খবরম পাওয়া যায়নি। সোমবার পর্যন্ত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সেখানে কোভিড-
১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র একজন।
প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে তার দেশে সতর্কতার মাত্রা দ্বিতীয় ধাপ থেকে প্রথম ধাপে নামিয়ে আনা হচ্ছে।
ফলে আজ মধ্যরাতের পর সেদেশে আর দূরত্ব রেখে মেলামেশার নিয়ম থাকছে না। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেএখনও ‘সোশাল ডিসট্যান্সিংয়ের’ এই নিয়ম কড়াকড়ি ভাবে মানার চেষ্টা করছে তখন নিউজিল্যান্ড সেটাকে শিথিল করল।
নিউজিল্যান্ডে বৈঠক-অনুষ্ঠানে, দোকানপাটে, হোটেল-রেস্তোরাঁয় কিংবা গণ পরিবহনেও এ নিয়ম মানতে হবে না।
প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অর্ডের্ন বলেন, এতদিন যে মনোযোগ আর আন্তরিকতা দিয়ে আমরা কাজ করেছি, এখন অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্যও আমাদের একইভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, এখনও সব কাজ শেষ হয়নি, তবে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে সেটা অবশ্যি একটি মাইল ফলক। এজন্য তিনি নিউজিল্যান্ডের সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

