পাপুলের কেলেংকারি নিয়ে কুয়েতের পার্লামেন্টে আলোচনা আজ
উত্তরদক্ষিণ । আরব টাইমস
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০ । আপডেট ০৩:৪৭
বাংলাদেশের সাংসদ শহিদ ইসলাম পাপুল ও তার কুয়েতি সহযোগীদের কেলেঙ্কারি নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুয়েতের পার্লামেন্ট। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিন ঠিক করেছে। পার্লামেন্টের কার্যতালিকায় সেটা উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থ ও মানবপাচারে সহযোগিতার জন্য কুয়েতের জাতীয় পরিষদের ২ এমপিকে বড় অঙ্কের অর্থ ঘুষ দেওয়ার কথা ’স্বীকার করেছেন’ বাংলাদেশের আলোচিত সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম পাপুল। এ নিয়ে কুয়েতের পার্লামেন্টে আজ মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছে সেদেশের সংবাদমাধ্যম আল-কাবাস।
কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের সূত্রে সেদেশের সোমবার (১৩ জুলাই) কুয়েতি সংবাদমাধ্যম আরব টাইমস এ খবর জানিয়েছে।

কুয়েতের এমপি সাদুন হাম্মাদ আল-ওতাইবি ও সালাহ আবদুলরেদা খুরশিদকে মোট ৫ লাখ ৭০ হাজার কুয়েতি দিনার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পৌনে ১৬ কোটি টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন পাপুল।
ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমস লিখেছে, কুয়েত জাতীয় পরিষদের কাছে দুই এমপির দায়মুক্তির বিধান উঠিয়ে নেওয়ার আবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সেদেশের পাবলিক প্রসিকিউশন।
এর মধ্যে আর্থিক লেনদেন এবং বাণিজ্যিক কাজে সহযোগিতার সাদুন হাম্মাদকে ২ লাখ কুয়েতি দিনার পাপুল দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কুয়েতের সরকারি কৌঁসুলিরা বলছেন, এক সিরীয় মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সাদুন হাম্মামের দক্ষিণ সুরার বাসায় নগদে ৫০ হাজার দিনার পৌঁছে দেওয়া হয়। বাকি দেড় লাখ দিনার দেওয়া হয় চেকের মাধ্যমে।

আরবি দৈনিক আল-কাবাসের খবরে বলা হয়, এমপি সালাহ খুরশিদকে দেওয়া হয় ৩ লাখ ৭০ হাজার কুয়েতি দিনার। তার বাসায় কয়েক কিস্তিতে ওই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশকে অবৈধভাবে কর্মী আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল জানিয়েছে পাবলিক প্রসিকিউশন।
সহিদ ইসলাম পাপুল লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে বসবাসের অনুমতি রয়েছে।
পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন। ১৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এখন তিনি কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
পাপুলের অর্থ ও মানবপাচারের ঘটনায় তদন্ত চলার মধ্যে ঘুষ লেনদেনসহ বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য জানিয়ে আসছে কুয়েতি সংবাদমাধ্যম।
কয়েকজন সংসদ সদস্য ছাড়াও সেনা কর্মকর্তা ও সরকারি আমলাদের সংশ্লিষ্টতার খবর প্রসিকিউশনের বরাতে দিচ্ছে সেদেশের গণমাধ্যম। তথ্য সহায়তা : আরব টাইমস, আল কাবাস ও বিডিনিউজ২৪

