নওগাঁয় বখাটে ছেলেদের বর্বরতায় স্কুল ছাত্রী মৃত্যু শয্যায়
আবু সাঈদ চৌধুরী । উত্তরদক্ষিণ
রাণীনগর (নওগাঁ); শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১৩:৫০
কোমল পানীয়য়ের (সেভেন আপ) সাথে হারপিক মিশিয়ে খাওয়ানোর ঘটনায় দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরেও এখন মৃত্যু শয্যায় নওগাঁ’র রাণীনগর সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিনা আক্তার সাদিয়া। কয়েকজন বখাটে মিলে জোর করে ওই স্কুল ছাত্রীকে হারপিক মেশানো সেভেন আপ খাওয়ায়।
বর্বরতার এমন ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর রাণীনগরে।
এ ঘটনায় গত ৩০ মে মামলা করতে গেলে থানা মামলা না নেওয়ায় এবং আদালত বন্ধ থাকায় প্রায় দুই মাস পরে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল -১ নওগাঁ আদালতে ভিকটিমের বড় চাচা মাসুদ মল্লিক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে শিবলু’র (২০) সাথে আদমদীঘি উপজেলার চকজান গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে রাণীনগর সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শেণির ছাত্রী সাবিনা আক্তার সাদিয়ার বিয়ের কথা হয়। গত দুই মাস আগে উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমেই তাদের মধ্যে বিয়ের কথা হয়। তিন মাস পরে শিবলুর (১ নং আসামী) বাড়িঘর নির্মাণের পর তাদের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শিবলু অন্যত্র বিয়ে করে।
গত ২২ মে তারিখ আনুমানিক সকাল ১০টার সময় স্কুল ছাত্রী সাবিনা আক্তার সাদিয়াকে ব্ল্যাক মেইল করে ইন্টারনেটে ছবি ছাড়ার ভয় দেখিয়ে তাকে রাণীনগর পোষ্ট আফিসের সামনে ডেকে নিয়ে শিবলুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু (২নং আসামী) একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে নাহিদ (২০) এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের সহযোগিতায় স্কুল ছাত্রী সাদিয়াকে টমটমে উঠাতে চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। পরে তারা সেভেন আপের (কোমল পানীয়) ৫০০ গ্রামের বোতলে হারপিক মিশিয়ে সাদিয়াকে জোর করে খাওয়ায়। এতে সাদিয়া ছটফট করতে থাকলে ওই অবস্থায়ই সেখানে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বখাটেরা।
এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে প্রথমিকভাবে রাণীনগর হাসপাতালে ওয়াশ করে পরে নওগাঁ সদরে কয়েকদিন চিকিৎসা করে বগুড়া শহিদ জিয়া মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয় । বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে ।
সাদিয়ার বাবা সাইফুল ইসলাম জানান, চিকিৎসকরা বলেছেন সাদিয়ার শ্বাস নালিতে ক্ষত হয়েছে সারতে অনেক সময় লাগবে। সাদিয়ার বাবা আরও বলেন, গত দুই মাস ধরে আমার মেয়ে মুখে কিছু খেতে পারছে না।

