ডিমলায় অভিনব পন্থায় শত-শত ইউনিট বিদ্যুৎ চুরি
মহিনুল ইসলাম সুজন । উত্তরদক্ষিণ
নীলফামারী; সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ১০:৫৫
পিতা-পুত্রের দুই নামে পল্লী বিদ্যুতের ৪টি মিটার সংযোগ নিয়ে সেই মিটার বাইপাস করে (সরাসরি) অবৈধভাবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকার ৩০ থেকে ৪০টি ব্যাটারী চালিত অটোবাইক গোপনে চার্জ দেয়াসহ রাইস মিল পরিচালনা করে নামমাত্র টাকায় ধান ভাঙ্গানো ও সেচ মটর চালিয়ে শত-শত ইউনিট বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের পুর্ব গয়াবাড়ি হাজ্বী পাড়া গ্রামে এ ঘটনায় জেলার ডিমলা ও ডোমার পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ রবিবার (২৬ জুলাই) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪টি মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ ২টি মিটার ও সাড়ে তিনশত মিটার অবৈধ সংযোগের তার জব্দ করেছেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, ওই এলাকার মৃত, সায়েব আলীর পুত্র অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম (৭৫) ও তার ছেলে লুৎফর রহমান সোহেল রানা (৪২) দীর্ঘ দুই বছর আগে পিতা-পুত্রের নামে ২টি আবাসিক, ১টি ক্ষুদ্র শিল্প ও ১টি সেচ মিটারের সংযোগ নেন।
সেই থেকে তারা বৈধ সংযোগ না চালিয়ে অভিনব পন্থায় মিটার বাইপাস করে সরাসরি অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে অটোবাইক প্রতি ৮০ টাকা করে হাতিয়ে নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি ব্যাটারী চালিত অটোবাইক, ১০ হর্সের সেচ মটর ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে নিজস্ব রাইস মিলে প্রতি মন ধান মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা হারে ভাঙ্গিয়ে দিয়ে আসছিলেন। যদিও বৈধ সংযোগে আরও খরচ বেশি।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার রাতে ডিমলা ও ডোমার পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ওই পিতা-পুত্রের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০টি অটোবাইকে মিটার বাইপাস করে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জে লাগানো অবস্থায় পান। এগুলোসহ রাইস মিল ও সেচ সংযোগ চালানো মোট ৪টি মিটারের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ সময়ে ২টি মিটার ও সাড়ে তিনশত মিটার তার জব্দ করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই পিতা-পুত্র দীর্ঘদিন যাবত মাইকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার ধান নামমাত্র টাকার মিনিময়ে ভাঙ্গানোসহ প্রতিনিয়ত নিজ বাড়িতে অর্থের বিনিময়ে ৩০/৪০টি ব্যাটারী চালিত অটোবাইক চার্জ ও সেচ মটরের সংযোগ মিটার বাইপাসের মাধ্যমে চালিয়ে শত-শত ইউনিট বিদ্যুৎ চুরি করে আসছিলেন।
এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

