শব্দনীল-এর চার কবিতা
শিল্প-সাহিত্য । উত্তরদক্ষিণ
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ১০:৪৫
১.
শ্যামাকালা কী আর জানে?
মণি কাজলার ঘন রাত্রি
ঝিঁঝির ডাক ঝিনুকে বন্দী করে
মুক্ত ফোটায়, চালতা রঙের বিছানায়।
বিছানায় গায়ে জলকেলি করে একদল বুনোহাঁস
অষ্টগ্রামের দক্ষিণ পাড়ে মুখ ডুবায় ফজর ওয়াক্তে
তখনই চাঁদমালার আঁচল খুলে জ্বলে ওঠে জোনাক।
সে কী তার লজ্জা!
দুরুদুরু বুক নিয়ে মধ্যবয়সী শালুকের কাছে নালিশ করে।
শালুক খিলখিল করে উঠতেই নিলুয়া বাতাস
চিমটি কাটে ঝিলিমিল ঢেউয়ের হাওরে।
হাওরের ইঁচড়েপাকা পাবদারা এই সুযোগে
স্নান করা শ্যামাকালার কোমরে ঠোঁট কাটে
মুক্তোর শপথে।
শ্যামাকালা কী আর জানে, বুনোহাঁসের দল
চাঁদমালার বুক খুলেছে?
শ্যামাকালা কী আর জানে, মণি কাজলার নোনা স্রোত হাওর জুড়ে আছে?
শ্যামকালা কী আর জানে, হাওর আমার সকাল, দুপুর গৃহস্থ?
২.
নিশি কলমি
এমন কইরা রাত-বেরাতে কূলার পাড়ে
যতন মাইখা খুইলা ব্লাউজ, ক্যানে ডাক পারিস
নিশি কলমি?
ক্যানে বানের লাহান ভাসায় দিস জোয়ারে জোয়ারে?
৩.
বুধবারের দিন
যোয়ান কালের খোসা ডিঙ্গিয়ে বুধবারের দিন
যহন পাতাবাহারীর সাজ নিছিলো
তহনই বুঝছি আমি, কেন মচোড় মারে কইলজা ধরি।
ডরখান ছিলো, ধরা খাওয়া জিওল মাছের মতো,
তবুও আশমানে তাহায় ছিলাম
তাহায় ছিলাম তোরও চোক্ষে…
পুকুরের জল জৈষ্ঠ্যে শুকায়, বর্ষায় উতলায়
ভাঙে না পাড়, হয় না নদী।
কিন্তু তুই, পূবপানের ঘাটলা ধরি
মাগরেবের আজানে
ভাঁজ খাওয়া কাপড়ের লাহান ঢেউ খেলি
ভাসান দিলি!
বলি শোন, যাবিই যদি তয়
কেন কইছিলি, পাড় ভাঙা
নয় তোর কুসুমতী।
৪.
ইতি অতীত আগামীর পথে
তুমি যেমন,
নিজের অনেক আগের কথা বলার সময় চোখ বড় বড় করতে
ওভাবেই, একাদশী মেঘ ধরে ধূলোর আস্তরণ থেকে আনলাম তুলে তোমাকে
শ্যাওলার কোলে দোপাট্টা আলগা করে
নীলবর্ণ এই শ্রাবণে।
ভেবো না বইয়ের ভাঁজে পড়ে যাওয়া ভুল
অন্তরালে থাকে, বরংচ –
অষ্টাদশীর ভোরগুলো এখনও তোমার মতো থমকে আছে
অষ্টাদশীর রাতগুলো এখনও জেগে আছে চড়ুইভাতির বিস্ময় নিয়ে
অষ্টাদশীর দুরুদুরু বুক ঠোঁটের কার্নিশ ঘেঁষে এখনও…
আমার ইচ্ছে হলেই আঁকড়ে ধরি ছেঁড়া পাতার সুখ,
আমার ইচ্ছে হলেই গালি দিয়ে ঝরাই শরীরের অসুখ,
আমার ইচ্ছে হলেই গুলঞ্চলতা হয়ে উঠি
জড়িয়ে ধরি জংলার মতো
আমার ইচ্ছে হলেই বলে দিই, ইতি অতীত আগামীর মতো।

