রৌমারীতে ক্ষুধা মেটাতে গো-খাদ্য খাচ্ছে মৌমাছিরা!

রৌমারীতে ক্ষুধা মেটাতে গো-খাদ্য খাচ্ছে মৌমাছিরা!

মাসুদ রানা । উত্তরদক্ষিণ
রৌমারী (কুড়িগ্রাম): বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১১:০৩

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় তৃতীয় দফায় ভয়াবহ বন্যার কারণে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। ক্ষুধা মেটাতে গো-খাদ্য খাচ্ছে মৌমাছিরা। বুধবার সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এসব চিত্র।

তৃতীয় দফায় ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সকল হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, বিভিন্ন ফসলি জমি, নার্সারীসহ কয়েকটি ফুলের বাগান তলিয়ে যায়। বানভাসি মানুষ সব চেয়ে বিপাকে পড়ে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেঁড়া, ও হাঁস-মুরগী নিয়ে। এসব পশুর খাদ্য সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছে গেরস্তরা।

অপর দিকে ফুলের বাগান ও অন্যান্য মধু জাতীয় গাছ বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন থেকে মৌমাছি চলে আসছে লোকালয়ে। আশ্রয় নিচ্ছে বিভিন্ন মসজিদ, স্কুল, কলেজ ও বাড়ির গাছ গাছালিতে। সেখান থেকে খাদ্যের সন্ধানে দলবেঁধে মৌমাছিরা ছুটছে বাজারের বিভিন্ন গো-খাদ্যের দোকানে। সকাল থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে সন্ধার পূর্বে এই মৌ’মাছিরা নির্দিষ্ট স্থানে ফিরে যায়। কিন্তু এমন পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হয়নি কখনো তাদের।

রৌমারীর চকবাজারের গো-খাদ্যের দোকান মালিক মো.সুজন মিয়া বলেন, “আমি কোনো দিনও দেহিনাই যে মৌমাছিরা গো-খাদ্য খায়। কয়েক দিন দইরা আমার দোহানে মৌ’মাছিরা দলবেঁধে সকালে আহে এবং গো-খাদ্য খেয়ে সন্ধ্যার আগ দিয়ে চলে যায়। চার দিকে বানের পানিতে ফসলি জমি, ডুবে যাওয়ায় খাদ্য সংকটের কারণে হয়তোবা আমার দোকানে আহে। তবে আমি এই মৌমাছিদের কে কখনো তাড়িয়ে দেই না।

এদিকে হোটেল মালিক ইসমাইল হোসেন বলেন, ইতিপূর্বে আমার জিলাপি ভান্ডতে ১০ থেকে ১৫টা করে মৌমাছি সব সময় থাকতো। তবে কয়েক দফার ভয়াবহ বন্যার প্রকোপে আশ্রয় ও খাদ্য সংকটের কারণে আমার হোটেলে ইদানিং অনেক মৌমাছি আসে।

কথা হয় মধু সংগ্রহকারী (মৌয়াল) আজিজুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, এবারের মতো মধু সংকট কখনও হয়নি। এবার চরম হতাশায় রয়েছি। দূর-দূরান্তে হেঁটেও মৌমাছির দেখা মিলছে না। তৃতীয় দফা বন্যায় বিভিন্ন ফুল ও ফলের বাগান ডুবে যাওয়ায় মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করতে পারছে না।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading