চালের দাম বাড়ায় মিল মালিকদের তলব

চালের দাম বাড়ায় মিল মালিকদের তলব

উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৯:৩৭

রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন, পর্যাপ্ত মজুদ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ রাখার পরও চালের দাম বাড়ছে। শুধু তাই নয়, বাজার থেকে এক প্রকার উধাও হয়ে গেছে মোটা চাল। ফলে চাপ পড়েছে চিকন চালে। এই সুযোগে সব ধরনের চিকন চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ থেকে ৬ টাকা। কোনও কারণ ছাড়া চালের এই মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি অনুসন্ধানে নেমেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। খাদ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, চালের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনও ধরনের কারসাজি থাকলে তা বরদাশত করা হবে না।

জানা গেছে, চালের মূল্য বৃদ্ধির এই বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি পার করছে সরকার। কোনওভাবেই এ বিষয়টি মানতে নারাজ সরকার তথা খাদ্য মন্ত্রণালয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, দেশে চালের মূল্যবৃদ্ধির মতো কোনও ঘটনাই ঘটেনি। সৃষ্টি হয়নি চালের কোনও বাড়তি চাহিদা। কাজেই এই সময় চালের মূল্যবৃদ্ধি পুরোটাই কৃত্রিম। এর পেছনে কেউ না কেউ রয়েছে, যারা এর কলকাঠি নাড়ছেন। কোনওভাবেই এই কারসাজি মানা হবে না। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে চালের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি জানতে মিল মালিকদের ডেকেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চালকল মালিক সমিতি, পাইকারি ও খুচরা চাল ব্যবসায়ীদেরও ডাকা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চালের সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন খাদ্যমন্ত্রী সাধান চন্দ্র মজুমদার ও খাদ্য সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম। এসব বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির প্রতিনিধিরাও থাকবেন। থাকবেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটায় খাদ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। চালের বাজারে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে, আর সেটি হচ্ছে ‘গরীবের চাল’ নামে খ্যাত মোটা চালের সরবরাহ কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। এ কারণে চাপ পড়েছে চিকন চালের উপর। আর এ কারণেই নাকি বেড়েছে চালের দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৬ টাকা। ৫৪ টাকা কেজি দরের মাঝারি মানের মিনিকেট চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। আর ৫৬ টাকা কেজি দরের নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা কেজি দরে। বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, চালের এই মূল্য বৃদ্ধির পেছনে কোনও ধরনের কারসাজি নেই। চালের দাম বাড়ার প্রধান কারণ প্রথমত, চালের চলতি মৌসুম শেষের দিকে। দ্বিতীয়ত এবার সারা বছর কেটেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে। প্রথম শিলাবৃষ্টি। এরপর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ছোবল। এরপর দেশের ৩৩ জেলায় বন্যা। যা এখনও চলছে। আর বছর জুড়ে করোনার সংক্রমণ তো রয়েছেই। এর বাইরে এবছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণও বেশি। প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। এসব কারণে বাজারে ধানের সরবরাহ কমে গেছে বিধায় দামও বেশি। ধানের দাম বেশি হলে চালের দাম বাড়বে যা স্বাভাবিক এমনটাই দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মিনিকেট চালের দাম বাড়লে তা সব ধরনের চালের দামের ওপর প্রভাব পড়ে। মিনিকেট চালের উদ্ভাবক আব্দুর রশিদ জানান, গত ৬ মাসে মিনিকেট চালের দাম আমরা বাড়াইনি। বাজারে যদি আমার মিনিকেট চালের দাম বেড়ে থাকে তাহলে তা অন্য কারও কারসাজিতে বেড়েছে। যা আমি জানি না। তবে বাজারে ধানের সংকট রয়েছে, কারণ সিজন শেষ। এতে চালের বাজার কিছুটা বাড়তি হতে পারে। কারণ ধানের সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ে। আর ধানের দাম বাড়লে চালের দামও বাড়বে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাণিজ্যিক সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবির হিসাবে, গত এক বছরে মোটা চালের দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশ। চিকন চালের দামও বেড়েছে ১৪ শতাংশ। মাঝারি মানের বিভিন্ন চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫৩ টাকা। আর প্রতি কেজি চিকন মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে বাজারভেদে ৫৬ থেকে ৬০ টাকা। টিসিবির হিসাবে, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এখন মাঝারি মানের চালের দাম ৯ শতাংশ ও সরু চালের দাম ১৫ শতাংশ বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আড়তে চিকন চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, যা আগে ছিল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা। আর মাঝারি মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী জানিয়েছেন, চালের বাজারে কারও কোনও কারসাজি নাই। ধানের মৌসুম শেষের দিকে। এখন বাজারে ধান নাই। এবার বছরজুড়েই একটার পর একটা দুর্যোগ লেগেই রয়েছে। প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। এসব কারণে বাজারে ধানের সরবরাহ কম, দামও বেশি। ধানের দাম বেশি হলে তো চালের দাম বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন, কি কারণে চালের বাজার অস্থির হয়েছে তা জানতে কাল মিটিং আছে। মিল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীরা আসবেন। তাদের ডেকেছে। তাদের কাছেই জানতে চাইবো চালের দাম বাড়ার কারণ। তবে চাল নিয়ে কেউ কারসাজি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশে পর্যাপ্ত চাল মজুদ আছে। তথ্য সহায়তা বাংলা ট্রিবিউন

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading