অসহায়দের জন্য রাজধানীতে দোকানের সামনে থাকছে খাবারের ঝুড়ি
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১০:১৭
প্রতিদিনই রাজধানীর ১০টি জায়গায় বিভিন্ন খাবারের দোকানের সামনে থাকছে খাবারের ঝুড়ি। গরীব-দুঃখী ছাড়াও প্রতিবন্ধী, মানসিক ভারসাম্যহীন ও শারীরিকভাবে অক্ষমরা সেখান থেকে পাবেন খাবার। অসহায়, দরিদ্র, ক্ষুধার্ত যে কেউ ওই ঝুড়ি থেকে নিঃসঙ্কোচে খাবার নিতে পারবেন।
শুধু তাই নয়, সামর্থ্যবানরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ঝুড়িতে রেখে যেতে পারেন খাবার। ‘ফুটবে মুখের হাসি, মিটবে পেটের ক্ষুধা’-এই স্লোগানে এমন উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) “পাথওয়ে”।
এ নিয়ে উদ্যোক্তা সংগঠনটির কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিদিনই রাজধানীর ১০টি জায়গায় বিভিন্ন খাবারের দোকানের সামনে থাকছে খাবারের ঝুড়ি। গরীব-দুঃখী ছাড়াও প্রতিবন্ধী, মানসিক ভারসাম্যহীন ও শারীরিকভাবে অক্ষমরা সেখান থেকে পাবেন খাবার।
ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ পুরো ঢাকা শহরে ছড়িয়ে দেয়া হবে বলেও জানান তারা। উদ্দেশ্য একটাই- সুবিধাবঞ্চিত অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।
জানা গেছে, মিরপুর-১৩ এলাকার মসজিদ মার্কেটে ৩টি, সেনপাড়া কাফরুল আমতলা বাজারে ৪টি, মিরপুর-১০ এসএ পরিবহন এর আশপাশের এলাকায় ৩টি দোকানের সামনে এই খাবারসহ ঝুড়ি বসানো হয়েছে।
মানবিক মূল্যবোধ আর সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সাধ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সামর্থ্যবানদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মো. শাহীন।
তিনি বলেন, শহুরে এ জীবনে উৎসবের নিয়ন আলো আর উচ্চস্বরে চলতে থাকা গানের মূর্ছনায় চাপা পড়ে হাজারও ক্ষুধার্ত মানুষের কান্না। দূর থেকে ভেসে আসা খাবারের সুগন্ধে দিশেহারা ক্ষুধার্তদের কষ্টে কাতর মানুষগুলোর ক্ষুধার নিবারণে ক্ষুদ্র এ প্রয়াস।
‘ভাবনাতেই আটকে না থেকে লেগে পড়েছি বাস্তবায়নে। জানি কষ্ট হবে। তবে শুরু করতে পারলে অনেকেই এগিয়ে আসবে এই ভেবেই শুরু করা। বিভিন্ন দোকানের সামনে খাবার সংগ্রহের কাজ শুরু করেছি। প্রথম দিকে আস্থার সঙ্কটে অনেকটা কঠিন ছিল খাবার সংগ্রহের কাজটি। কিন্তু সদিচ্ছা ও মানুষকে সেবা দেয়ার আন্তরিক লক্ষ্য সব বাধা দূর করে খাবার সংগ্রহের জন্য দোকানে দোকানে ঝুড়ি দেয়ার কাজে নেমে পড়ে সংস্থাটির স্বেচ্ছাসেবকরা।’
তিনি আরও বলেন, এক মাস আগে শুরু হয় অসহায়, ক্ষুধার্ত, মানসিক ভারসাম্যহীন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেয়ার কাজ। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশে পাথওয়ের এ ভিন্নধর্মী উদ্যোগ দারুণভাবে সাড়া পেয়েছে। এই উদ্যোগে অনেকেই নীরবে-নিভৃতে আড়ালে থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বর্তমানে মিরপুর ও কাফরুল থানাধীন মোট ১০টি স্থানে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এলাকায় ইতোমধ্যে ‘অন্নদান’ নামে পরিচিতি পেয়েছে এ উদ্যোগ।
সংগঠনটি বলছে উদ্যোগটি আনন্দময় করে তুলতে সবাইদর সর্বাত্মক সহযোগীতা দরকার। ধনী, দরিদ্র সবাই মিলেই আমরা এই উদ্যোগটি গোটা শহরে ছড়িয়ে দিতে চাই।

