জন্মহার বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাহায্য নেবে জাপান
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১১:৩৪
জাপানে জন্মহার বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্য নেবে। লোকজন যাতে তাদের পছন্দের জীবনসঙ্গী খুঁজে বের করতে পারে, সেজন্যে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে কাজে লাগানো হবে।
বিশ্বে যেসব দেশে জন্ম হার সবচেয়ে কম, জাপান তার একটি। সেখানে জন্ম হার কমছে বহু বছর ধরে, ফলে এখন জাপান মূলত প্রবীণদের দেশে পরিণত হয়েছে। গত বছর জাপানে জন্ম নিয়েছিল মাত্র ৮ লাখ ৬৫৪ হাজার শিশু। এটি নিম্ন জন্মহারের ক্ষেত্রে এক নতুন রেকর্ড।
জাপানে ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার এরকম প্রকল্প চালাচ্ছে বা শুরু করতে যাচ্ছে, সরকার সেগুলোকে সহায়তা দেবে। সামনের বছর জাপানের কেন্দ্রীয় সরকার স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য দুই বিলিয়ন ইয়েন বা ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে।
নিম্ন জন্মহারের এই ধারা পাল্টানোর জন্য সরকার চেষ্টা করছে অনেক বছর ধরে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ সেরকম একটি পদক্ষেপ।
জাপানে অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ম্যাচ-মেকিং বা ঘটকালি সেবা দিয়ে থাকে। কোন কোন এলাকার কর্তৃপক্ষ এজন্যে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করছে। যারা জীবনসঙ্গী খুঁজছেন, তাদের যে ফর্মটি পূরণ করতে হয়, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে সেটি বিশ্লেষণ করে এই কাজ অনেক ভালোভাবে করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন যেসব ব্যবস্থা চালু আছে, সেগুলোর ঘটকালি দক্ষতা খুব সীমিত। সম্ভাব্য পাত্র-পাত্রী খোঁজার সময় এখানে কেবল বয়স বা আয়ের সীমাকে বিবেচনায় নেয়া হয়। একেবারে যেরকম সঙ্গী কেউ খুঁজছেন, কেবল সেরকম কেউ থাকলেই তাকে সার্চ রেজাল্টে খুঁজে পাওয়া যায়।
জাপানের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, সরকারের এই তহবিল ব্যবহার হবে আরও উন্নত প্রযুক্তি তৈরির জন্য। যেখানে পাত্র-পাত্রী খোঁজার ক্ষেত্রে কারও সখ এবং মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলোকেও বিবেচনায় নেয়া যাবে।
সরকারের একজন মন্ত্রী ফরাসী বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেন, “যেসব স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটকালির সেবা চালু করেছে বা করতে যাচ্ছে, আমরা বিশেষ করে তাদেরকেই সাহায্য দেয়ার পরিকল্পনা করছি।”
“আমরা আশা করছি এরকম সহায়তার মাধ্যমে আমরা জাপানের জন্মহার কমার বর্তমান ধারাটি উল্টে দিতে পারবো।”
২০১৭ সালে জাপানের জনসংখ্যা যেখানে ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ, সেখান থেকে এই শতকের শেষে তা ৫ কোটি ৩০ লাখে নেমে আসবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

