করোনাক্রান্ত ১ জনের জন্য দুর্ভোগে প্রমোদতরীর ১৭শ’ যাত্রী

করোনাক্রান্ত ১ জনের জন্য দুর্ভোগে প্রমোদতরীর ১৭শ’ যাত্রী

উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১১:৪৫

সিঙ্গাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া রয়্যাল ক্যারিবিয়ান কোম্পানির একটি প্রমোদতরীতে এক যাত্রীর করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্তের পর সেটিতে থাকা প্রায় ১৭শ’ আরোহী দুর্ভোগে পড়েছেন। খবর রয়টার্স’র।

বুধবার (০৯ ডিসেম্বর) ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময়ের জন্য তারা নিজ কেবিনেই আটকা পড়েন। ফিরে যেতে বাধ্য করা হয় প্রমোদতরীটিকে।

গত সোমবার ‘দ্য কোয়ান্টাম অব দ্য সিস’ নামের এই প্রমোদতরী ১,৬৮০ জন অতিথি এবং ১,১৪৮ জন ক্রু নিয়ে সিঙ্গাপুরের চারপাশে উদ্দেশ্যহীন সমুদ্র ভ্রমণের জন্য মেরিনা বে ক্রুজ সেন্টার থেকে রওনা হয়।

কিন্তু একজনের কোভিড-১৯ ধরা পড়ার কারণে চারদিনের এই প্রমোদভ্রমণ মাঝপথে বাতিল করে বুধবারই তরীটিকে বন্দরে ফিরে যেতে হয়েছে।

অথচ এই ভ্রমণের আগে প্রত্যেক অতিথি এবং ক্রুর জন্য করোনাভাইরাস ‘নেগিটিভ’ সনদ দেখানো বাধ্যতামূলক ছিল এবং তারা সেটি দেখিয়েই প্রমোদতরীতে যাত্রার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু এত কড়াকড়ি করেও শেষরক্ষা হয়নি।

৮৩ বছর বয়সের একজন পুরুষ ডাইরিয়া নিয়ে প্রমোদতরীর মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন এবং পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়ে। যারা যারা ওই রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত যাদের পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের সবার ফলাফলই ‘নেগিটিভ’ এসেছে বলে জানিয়েছে রয়্যাল ক্যারিবিয়ান কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকালেও ‘কন্টাক্ট ট্রেসিং’ এর কাজ চলতে থাকায় আরোহীদের সবাইকে যার যার কেবিনেই রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে খবরে। বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ অতিথিদের জাহাজ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

প্রমোদতরীর অতিথি মেলভিন চিউ নামে ৩১ বছর বয়সের এক ‘বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার’ জানান, তিনি বুধবার ভোররাত ৩টার দিকে জাহাজের মাইকে এক ঘোষণায় একজন অতিথির কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার খবর জানতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘‘তখন আমার মনে হয়েছিল, ‘যেটা নিয়ে সবচেয়ে ভয় পাচ্ছিলাম সে ঘটনা ঘটেই গেল।”

পরে স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে জাহাজটি সিঙ্গাপুরে ফিরে যায়। তারপর থেকে যাত্রীরা বিকাল ৫টা পর্যন্ত তারা জাহাজে নিজ নিজ কেবিনের ভেতরই অপেক্ষা করেছেন। সব আরোহীর কোভিড-১৯ পরীক্ষার পরই তাদের টার্মিনাল ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হবে। আর কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীকে বুধবার দুপুর ২টার পরপর অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়া হয়।

এ বছরের শুরুতে করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া শুরু হলে রয়্যাল ক্যারিবিয়ান মার্চ থেকে তাদের ‘ক্রুজ-টু-নোহয়্যার’ এর কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ করে দেয়। তার পর সোমবারই তারা প্রথম আবার তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল।

শুধু সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা ‘ক্রুজ-টু-নোহয়্যার’ ভ্রমণ নিতে পারেন এবং এই প্রমোদতরী কোথাও থামে না। সিঙ্গাপুরের টার্মিনাল থেকে সমুদ্র ভ্রমণ শেষে সিঙ্গাপুরেই ফিরে আসে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading