নারী যখন ভয়ংকর!

নারী যখন ভয়ংকর!

গুলশান মাহমুদ | উত্তরদক্ষিণ
মুদ্রিত সংস্করণ: রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ০০:০১

করোনামহামারির মধ্যে বিচিত্র সব ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে বিশ্ব। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীন থেকে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়লেও বিশ্বজুড়ে মূল ধাক্কাটা আসে ২০২০ সালেই। অন্যান্য দেশের মতো এ মহামারির তাণ্ডব শুরু হয় আমাদের দেশেও। কিন্তু দেশজুড়ে করোনার প্রকোপের মধ্যেও একে একে লাইমলাইটে আসে বড় বড় অপরাধ এবং অপরাধীর চিত্র। এর মধ্যে বছর জুড়ে আলোচিত হয়েছেন কিছু নারীও। যাদের কর্মকাণ্ডে রীতিমত বিহ্বল দেশবাসী।
যে নারীকে আমরা মায়ের জাত বলি। নারী শব্দে আমরা যে মমত্ব বোধ পাই, নারীত্বে প্রেমিকার অবগাহন লাভ করি, নারীত্বেই সংসারে পূর্ণতা বলে জানি, সেই নারীদেরই কাউকে যখন এমন সব অপরাধীর কাঠগড়ায় দেখতে পাই সেটা বিহ্বল হওয়ার মতোই ঘটনা বটে।
বছর জুড়ে আমাদের সামনে এসেছে প্রতারণাসহ এরকম বিভিন্ন ঘটনা। এসব ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার, রয়েছেন গৃহিণী, রয়েছেন ছাত্রী এমনকি স্বনামে প্রভাবশালী নারীও। যারা বিভিন্ন ঘটনায় ভয়ংকর সব অপরাধে অভিযু্ক্ত হয়েছেন, দাঁড়িয়েছেন কাঠগড়ায় আবার কেউ কেউ রয়েছেন অধরাও।

পাপিয়া কাণ্ড: অস্ত্র মামলায় পাপিয়া দম্পতির ২৭ বছরের কারাদণ্ড।
“নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে করা অস্ত্র মামলার দুটি ধারায় উভয়কেই ২৭ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে অস্ত্র মামলায় উভয়কেই ২০ বছর করে এবং গুলি রাখার জন্য উভয়কেই সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর, ২০২০) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় পাপিয়া ও স্বামী উভয়কেই আদালতে হাজির করেছিল পুলিশ।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গ্রেফতার অন্যরা হলেন-পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)।
তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ জাল টাকা, ১১ হাজার ৯১ মার্কিন ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারের দিন রাতেই নরসিংদীতে পাপিয়ার গ্রামের বাড়িতে এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হোটেল ওয়েস্টিনে তাদের নামে বুকিং করা বিলাসবহুল প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে অভিযান চালানো হয়।
২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পাপিয়ার ফার্মগেটের বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০টি পিস্তলের গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ এবং ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।” ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত ১২ অক্টোবরের খবর এটি।

ডা. সাবরিনার কুকীর্তি: ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী প্রকৌশলী ও স্ত্রীর সাক্ষ্য।
করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষায় প্রতারণার মামলায় ডা. সাবরিনা চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী হাজেরা বেগম সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (০১ ডিসেম্বর) ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালতে সাক্ষ্য দেন তারা। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক ১৫ ডিসেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেন বলে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান জানান।
সিরাজুল ও হাজেরা সাক্ষ্যে বলেন, গত ১২ জুন তারা সাবরিনা ও তার স্বামীর প্রতিষ্ঠান জেকেজিতে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। পরদিন তাদের ফল পজিটিভ আসে। পরে কুমির্টোলা জেনারেল হাসপাতালে দুইবার পরীক্ষা করালে সেখানে ফল আসে নেগেটিভ।
১৮ জুলাই তাদের গাড়িচালক, গৃহকর্মী, বাড়ির কেয়ারটেকার- সবার নমুনাও জেকেজিতে দেন। তাতেও ফল আসে পজিটিভ। কিন্তু কুমির্টোলা জেনারেল হাসপাতালে এদের নমুনা পরীক্ষায়ও ফল নেগেটিভ আসে।
জবানবন্দী শেষে তাদের জেরা করেন আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ। এ মামলার ৪০ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য শেষ হলো।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ডা. সাবরিনার স্বামী জেকেজির সিইও আরিফুল হক চৌধুরী, তার সহযোগী সাঈদ চৌধুরী, জালিয়াত চক্রের প্রধান হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী, নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা, বিপ্লব দাস ও মামুনুর রশীদ। সাক্ষ্য গ্রহণকালে ওই আটজনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
গত ২০ আগস্ট সাবরিনাসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন একই বিচারক। তার আগে ৫ আগস্ট এ মামলায় ঢাকা সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয় জেকেজি হেলথকেয়ার। এর বেশিরভাগই ভুয়া বলে ধরা পড়ে। এ অভিযোগে গত ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়।
উপরোক্ত দুইটি ঘটনাই সমাজের উচুস্তরের এবং স্বনামধন্য দুই নারীর। এবার আসি একটু অন্যদিকে।

মিন্নি কাহিনী: বরগুনায় রিফাত হত্যা: মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসি:
“বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন।
২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে (২২) গুরুতর আহত করে। আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই দিনই মারা যান।”
সাধারণ চোখে মিন্নি গ্রামের একজন সাধারণ মেয়ে বা কলেজ ছাত্রী এবং কারো বউ। অর্থাৎ সেই অর্থে স্বনামধন্য কেউ না। ২০১৯ সালের এই ঘটনার পর স্বভাবতই আমরা সবাই স্বামীহারা এক নারীর জন্য সমবেদনা জানিয়েছি। ভিডিওতে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে দেখে বাহবাও দিয়েছি। কিন্তু শেষে জানা গেল সে-ই জড়িত! বিষয়টি আসলেই ভয়াবহ।

পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা:
‘কানাডার সিটিজেন ডিভোর্সি ও সন্তানহীন নারীর জন্য পাত্র চাই’, এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌসকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১০ বছর ধরে পত্রিকায় এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলো জান্নাতুল। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। অভিযানে তার কাছ থেকে তিনটি পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোন, ৩টি মেমোরি কার্ড, ৭টি সিল, অসংখ্য সিম ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকার একটি হিসাব বই উদ্ধার করা হয়। কুমিল্লার দেবিদ্বারের মেয়ে জান্নাত এসএসসি পাস না করলেও পোশাক এবং তার কথাবার্তায় স্মার্টনেসের কারণে কানাডা প্রবাসী বলে লোকজনের বিশ্বাস জন্মাতে সমর্থ হয়। অনেকেই তার ফাঁদে পড়ে খুইয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
জান্নাতুল তার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে মিলে এই প্রতারণা শুরু করেন। ঢাকা ও এর আশপাশে তার ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে সিআইডি। খবর ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০-এর।

ফেসবুক প্রতারণা: ফেসবুকে প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশি নারীসহ ১২ নাইজেরিয়ান গ্রেপ্তার। খবরটি ২২ জুলাই, ২০২০-এর।
একটা অফিস। সেখানে কাজ শুধু ফেসবুকে বিভিন্ন জনের সঙ্গে চ্যাট করা। এভাবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতারণার জাল বিছিয়ে বন্ধু তৈরি করে অভিনব পদ্ধতিতে দুই মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এ অভিযোগে ১২ নাইজেরিয়ান ও এক বাংলাদেশি নারীর একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান সিআইডি কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তারকৃত নাইজেরিয়ার নাগরিকরা হলেন- নন্দিকা কেনেন্ট, ক্লেটাস আছুনা, ওইউকুলভ টিমটি, একিন উইসডোম, চিগোজি, ইভুন্ডে গ্যাব্রিল ওবিনা, স্যালেস্টাইন প্যাট্রিক, মর্দি ন্যামডি, ওরদু চুকওরদু সাম্মি, ডুবুওকন সোমায়ইনা, জেয়েরেম প্রেসিয়াস একমি, ওক উইসডম।
এ ছাড়া, রাহাত আরা খানম ওরফে ফারজানা মহিউদ্দিন (২৭) নামের এক বাংলাদেশি নারীকেও গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ওই নারী নিজেকে কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানায় সিআইডি।

সেভেন পাশ নূপুরের এলাহী কারবার: অতিসম্প্রতি সামনে এসছে আরেক নারীর ভয়ংকর খবর। বেকার নূপুর ভাড়া থাকেন লাখ টাকার ফ্ল্যাটে
তেজগাঁওয়ের গ্রামীণফোনের সার্ভিস সেন্টারে কর্মরত এক কর্মীর সহযোগিতায় সার্ভার থেকে গ্রাহকের তথ্য চুরির পর তাদের ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকার হাতিরঝিল থানা পুলিশ। ওই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন পারভীন আক্তার নূপুর নামে এক নারী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, দৃশ্যমান কোনও পেশা না থাকলেও সপ্তম শ্রেণি পাস নূপুর থাকেন গুলশানের নিকেতনে। তার ফ্ল্যাট ভাড়া মাসে লাখ টাকা। তার মেয়ের স্কুলের বেতন প্রতিমাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা। সে বনানীর ১১নং রোডের ই-ব্লকের গ্রিন ডিলাক্স হাউজ নামের একটি জিমে নিয়মিত যায়। সেখানে প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা বিল দেয়। গুলশান থানায় সে একবার অভিযোগ করেছিল যে তার ৬টি লিপস্টিক চুরি হয়েছে, যেগুলোর দাম ৯০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে বুধবার (৯ ডিসেম্বর) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছে পারভীন আক্তার নূপুর। চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে। তার টার্গেট ছিল মূলত ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিরা। টার্গেট করা ব্যক্তির সব ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে পরিবারের সব সদস্যকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে সে।’
জানা গেছে, এমনকি ভুয়া আইনজীবীর মাধ্যমে ফোন করে নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণ মামলার হুমকি দিয়ে ভয় দেখানো হয়। এই চক্রকে টার্গেট করা ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করে গ্রামীণফোনের সার্ভিস সেন্টারের কর্মী রুবেল মাহমুদ অনিক। চক্রের প্রধান পারভীন আক্তার নূপুর, তার বোন শেফালি বেগম, গ্রামীণফোনের কর্মী রুবেল মাহমুদ অনিক এবং নূপুরের সহযোগী শামসুদ্দোহা খান বাবু নামে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরপরই বেরিয়ে এসেছে এ ধরনের ভয়ঙ্কর প্রতারণার নানা তথ্য।
সংঘবদ্ধ চক্রটি উচ্চপদস্থ চাকরিজীবী, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের টার্গেট করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ষাটোর্ধ্ব বয়সের লোকজনই তাদের মূল টার্গেট। চক্রের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার ২০-২৫ জনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রামীণফোনের সার্ভিস সেন্টারের কর্মী রুবেল মাহমুদ অনিক ও ট্রাভেল এজেন্সিতে কর্মরত শামসুদ্দোহা খান বাবুর সঙ্গে নূপুরের সখ্য রয়েছে। অনিক ও বাবু নূপুরকে বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তির মোবাইল নম্বর দিয়ে সহযোগিতা করে। এরপর নূপুর নিজেকে কখনও সমাজকর্মী কখনও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য তহবিল সংগ্রহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য তহবিল সংগ্রহে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে, চাকরির প্রার্থী বা সাংবাদিক পরিচয়ে এসব ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি দেখা করে। নানা অজুহাতে টার্গেট করা ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে। অনেক সময় ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর বা গোপন কথা বলে তা মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে। এমনকি মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে নূপুর। বয়স্ক ব্যক্তিদের টার্গেট করে এমন প্রেমের সম্পর্ক করে। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তির পরিবারকে সব জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে।
এদিকে এসব ব্যক্তির মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে নূপুরকে গ্রামীণফোন সার্ভিস সেন্টারে কর্মরত রুবেল তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করে। বিস্তারিত এসব তথ্য নিয়ে নূপুর ওইসব ব্যক্তিকে হুমকি দিতে থাকে। নূপুরের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে এমন হুমকি অব্যাহত থাকে। এমনকি তার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে এমন কথা পরিবারের সদস্যদের জানানোর হুমকি দেওয়া হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নূপুরের বড়বোন শেফালী টার্গেট করা ব্যক্তিকে ফোন করে মামলার হুমকি দেয়। অনেকেই সম্মানের ভয়ে দাবিকৃত টাকা দিয়ে দেন। তবে কেউ দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে ইসা নামে অপর এক সদস্য ওই ব্যক্তিকে ফোন করে মিথ্যা ও বানোয়াট ধর্ষণ মামলা বা নারী নির্যাতন মামলা করার হুমকি দেয়। ইসা বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট বিল ভাউচার তৈরি করার কথাও জানায়। এমনকি শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী টার্গেট করা ব্যক্তিকে ফাঁসানোর জন্য নামকরা চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে প্রেসক্রিপশনে স্বামীর নাম অপশনে ওই ব্যক্তির (টার্গেট) নাম লিখে আনে নূপুর।
কয়েক মাসে পারভীন তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর এবং আরও কয়েকটি মোবাইল নম্বর থেকে ১৫-২০ জন ব্যক্তিকে টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করেছে। এমনকি রুবেলের মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ৬টি গ্রামীণফোন নম্বর পাঠিয়ে মোবাইল নম্বরধারী ব্যক্তির সিম রেজিস্ট্রেশন তথ্য (নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, জন্মনিবন্ধন নম্বর) জানতে চায় নূপুর। দশ হাজার টাকার বিনিময়ে রুবেল গ্রামীণফোনের সার্ভার থেকে এ তথ্যগুলো সংগ্রহ করে হাতে লিখে নূপুরকে দেয়।
এছাড়া সম্প্রতি আরও কিছু ঘটনা সামনে এসেছে, যেগুলো অতটা লাইমলাইটে না আসলেও ঘনাগুলো রোমহর্ষক। এর মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটে শিশু হত্যা, যে ঘটনায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন শিশুটির মা নিজেই। আরও কিছু শিরোনাম- ‘নারীর খপ্পরে’ পড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোর’, ‘প্রধান শিক্ষিকার এক লাখ ৮৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল ৪ নারী’, ‘বাড়িতে আসতে দেরি করায় খুলনায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী’ এই ঘটনাগুলো, খবরগুলো প্রায়ই সামনে আসছে।
এখন কথা হলো এর শেষ কোথায়? এসব ঘটনায় অভিযুক্তের তালিকায় নারীর নাম থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সংঘবদ্ধভাবে পুরুষই রয়েছেন জড়িত বা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে। আর নারীকেই ব্যবহার করা হচ্ছে এসব কাজে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading