কক্সবাজার জেলা হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড

কক্সবাজার জেলা হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড

উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ০৮:২৩

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় অক্সিজেনের অভাবে এক বৃদ্ধা রোহিঙ্গা রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম গোলবাহার বেগম (৭০)। আগুন লাগার খবর শুনে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ রোগীর স্বজনরা ছোটাছুটি শুরু করায় তার মুখে লাগানো অক্সিজেনের মাস্ক খুলে যায়। কেউ তা খেয়াল না করায় মুমূর্ষু ওই রোগীর সেখানেই মৃত্যু হয়। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের নিচতলার একটি পরিত্যক্ত স্টোররুমে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসময় চিকিৎসার অভাবে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আলী আকবরের স্ত্রী গোলবাহার বেগম (৭০) নামের এক মুমুর্ষ রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন বলে জানা যায়।

বৃদ্ধা গোলবাহার বেগমের মৃত্যুর পর হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা তার নাতি ফরিদ আলম জানান, হাসপাতালে আগুন ধরার আগে তার নানিকে মুমূর্ষু অবস্থায় আনা হয়। সে মুহূর্তে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল। সেই সময় আগুন লাগার খবর শোনার সাথে সাথে চিকিৎসা ফেলে ভেতরে থাকা ডাক্তার, নার্স ও স্টাফরা হুড়োহুড়ি করে পালিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে সুস্থ অসুস্থ সব রোগী ও তাদের স্বজনরাও বের হয়ে যায়। আমিও বের হয়ে যাই। এসময় নানির মুখে অক্সিজেনের মাস্ক লাগানো ছিল। কিন্তু সবাই বের হওয়ায় মুখের মাস্ক খুলে যাওয়ায় অক্সিজেনের অভাবে তিনি মারা যান।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর দুইটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে জানাতে পারেনি।

এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আগুন লাগার খবরে ২৫০ শয্যার সব রোগীদের হাসপাতালের বাইরে নিয়ে আসা হয়। এতে করে রোগীদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের অক্সিজেনের অভাবে দুর্ভোগে পড়েন। ঘণ্টাব্যাপী বিদ্যুৎ না থাকায় সংশ্লিষ্টদেরকেও কাজ করতে বেগ পোহাতে হয়। পরে রাত ৭টার দিকে বিদ্যুৎ এলে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading