আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষের পরিচয় কি?

আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষের পরিচয় কি?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি| উত্তরদক্ষিণ
মুদ্রিত সংস্করণ: রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১| আপডেট : ০০:০১

বিবর্তনের ধারাটি সরলরেখায় না চলে বেশ জট-পাকানোভাবে চলেছে। প্রমাণ মিলেছে নানা প্রজাতির গুহামানবের সহাবস্থানের, প্রজননের।

সাইবেরিয়ার আল্টাই পর্বতের মাঝে সারা বছর স্যাঁতসেঁতে গুহা ডেনিসোভা। এখানে নিয়ান্ডারথাল, আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষ ও ডেনিসোভানরা বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নিয়েছিল। বিবর্তনে অন্তত ১৫টি প্রজাতির আদিম মানুষের আগমন হয়েছিল, যারা বিভিন্ন সময়ে আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষের সঙ্গে সহাবস্থান করেছিল। আধুনিক মানুষের সঠিক পূর্বপুরুষের পরিচয় আজও ধূসর। মানব বিবর্তনের রাস্তা একটা চমকপ্রদ অধ্যায়, এখনও যার জট ছাড়ানো চলছে।

এক দশক আগে জার্মানির ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষণায় জানা গিয়েছিল ডেনির বংশ পরিচয়। তেরো বছরের এই একরত্তি মেয়ে প্রায় ৯০ হাজার বছর আগে গুহারই বাসিন্দা ছিল। তার আঙুলের হাড় থেকে পাওয়া ডিএনএ বলে দিল তার বাবা ডেনিসোভান আর মা নিয়ান্ডারথাল। ডেনির নিয়ান্ডারথাল মা পূর্ব ইউরোপের ক্রোয়েশিয়া থেকে এসেছিল সাইবেরিয়ায়। ডেনিসোভান ডিএনএ কিন্তু এখনও বহন করে চলেছে মাকালু আর নিউগিনি দ্বীপপুঞ্জের প্রাচীন গাঢ় ত্বকের স্বর্ণকেশী অধিবাসী মেলানেশিয়ানরা। স্বর্ণকেশী ইউরোপিয়ানরা এদের থেকে আলাদা। সম্ভবত তিব্বতিদের উচ্চতাজনিত অভিযোজনের জন্যও প্রয়োজনীয় জিন ডেনিসোভানদের অবদান।

২০২০ সালের নভেম্বরে সায়েন্স পত্রিকায় বিজ্ঞানীরা প্রকাশ করলেন, সাইবেরিয়ার আল্টাই থেকে ২৮০০ কিলোমিটার দূরে, আজ থেকে পঞ্চাশ হাজার বছর আগে ডেনিসোভানরা তিব্বতের বৈশিয়া ক্রাস্ট গুহাতেও বসবাস করেছিল। তীব্র শীত ও উচ্চতায় বাঁচতে শিখেছিল এরা।

একটা আঙুল, তাও আবার অর্ধেক, তিনটে দাঁত, কিছুটা চোয়াল আর খানিকটা খুলি— এই সম্বল করেই কম্পিউটারে তৈরি হয়েছে এদের প্রতিকৃতি। চওড়া বুক ও কোমর, গায়ের রং গাঢ়, চোখ ও চুল খয়েরি, ঢালু কপাল, লম্বা নাক, নীচের বড় চোয়াল সামনের দিকে বাড়ানো। আধুনিক মানুষ নয়, এদের সঙ্গে নিয়ান্ডারথালদেরই বেশি সাদৃশ্য। তবে বিবর্তনের ধারায় আধুনিক মানুষের সব আত্মীয়রাই আজ বিলুপ্ত। শিম্পাঞ্জি, গরিলা, বোনোবো, ওরাংওটাং ও মানুষ নিয়ে গঠিত পরিবারের নাম গ্রেট এপ। আমাদের সবচেয়ে কাছের আত্মীয় শিম্পাঞ্জিরাই। একটা সময় ছিল, যখন শিম্পাঞ্জি ও মানুষকে আলাদা করা যেত না। শিম্পাঞ্জি ও মানুষের আলাদা হওয়াটা মাত্র ৭০ লক্ষ বছর আগে। বিচ্ছেদের সেই ইতিহাস আজও অজানা।

জার্মানির এক গুহাতে আবিষ্কার হয়েছিল ৩২ হাজার বছরের পুরনো প্রথম মানব শিল্প, ভাস্কর্য ‘লায়নম্যান’— মানুষের দেহ ও সিংহের মুখ। অর্থাৎ, তখনই মানুষ কল্পনা করতে শিখেছিল। মানুষের গল্প বলার শুরুটা সেই থেকেই।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading