খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | আপডেট: ১৪:১১

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে সচেতনা সৃষ্টির পাশাপাশি যারা এ কাজ করছেন, তাদের কঠোর হাতে দমনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২১’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা ব্যবসা করতে চায় বা ব্যবসা করছে, দুই পয়সা বেশি কামাই করার জন্য, তারা এই ভেজাল দিতে থাকে, বা পচা-গন্ধযুক্ত খাবার আবার ব্যবহার করে। এই ব্যাপারে একদিকে যেমন সচেতনা সৃষ্টি করতে হবে..যে ঠিক আছে আপনারা পয়সা যেটা খরচ হবে সেটা নিয়েন। লাভের অংশও ওইভাবে হিসেব করেন। কিন্তু এইভাবে ভেজাল দিয়ে মানুষের ক্ষতি করবেন না।

“একদিকে যেমন তাদেরকে বোঝানো, তাদের ভেতর সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, অপরদিকে যেটা করতে হবে সেটা হলে কঠোর হস্তে এটা দমনও করতে হবে। দুইদিকে ব্যবস্থা নেওয়া একান্তভাবে দরকার। সেই ব্যবস্থাগুলো আপনাদের নিতে হবে।”

এসময় জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি ধন্যবাদ জানাব, ইতিমধ্যে আপনারা ঢাকা শহরে বিভিন্ন হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলো..সেগুলোতে গ্রেডিং স্টিকার দিয়ে দিচ্ছেন এবং মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এটা অত্যন্ত ভালো কাজ।

“এ কাজটা শুধু রাজধানীতে করলে হবে না। এটা সারা বাংলাদেশে করা দরকার। সেদিকে আপনারা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেন। এই ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানোর জন্য আপনারা যে পদক্ষেপই নেবেন এই ব্যাপারে যা সহযোগিতা করা দরকার করব।”

নিরাপদ খাদ্য শুধু পরীক্ষাই নয়, পাশাপাশি মানুষ কীভাবে সুষম খাদ্য গ্রহণ করবে তা প্রচার করে সচেতনতা আনতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। কৃষিকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি, কারণ বাংলাদেশ হচ্ছে কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতি কৃষির উপর নির্ভরশীল। আর এই কৃষির সাথে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

“আমরা কারও কাছে হাত পেতে চলতে চাই না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, নিজেদের খাবার নিজেদের উৎপাদন করতে হবে। নিজেদের পুষ্টি নিজেদের নিশ্চিত করতে হবে এবং সেটা আমরা নিজেরাই করব।”

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে জনগণের জীবন-জীবিকা চালু রাখা ও অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্রান্তে এই সময় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading