৩০ মার্চ: একাত্তরের এই দিনে

৩০ মার্চ: একাত্তরের এই দিনে

উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০২১ | আপডেট: ০৯:৫২

আজ ৩০ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের আধিপত্য ভাঙতে পাকিস্তানি জান্তা রিজার্ভ সৈন্যদেরও সবদিকে পাঠাতে শুরু করে। তবে প্রতিরোধের মুখে পড়ে সর্বত্র। ইন্ডিয়ায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকেন ইন্দিরা গান্ধী। কয়েক লাখ শরণার্থীর পশ্চিমবঙ্গে যাওয়ার খবর শিরোনাম হয়ে ওঠে বিশ্ব গণমাধ্যমে। এইদিন সাধারণ মানুষ বুঝতে শুরু করে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।

যশোরের খণ্ডযুদ্ধ থেকে পালিয়ে এসে পাকসেনারাই ঊর্ধ্বতনদের জানান, মুক্তিসেনাদের বীরত্ব-কথা। নতুন করে সাতক্ষীরাসহ আরও কিছু এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটির খবরে উদ্বিগ্ন পাকজান্তা সারাদেশে পাঠাতে শুরু করে রিজার্ভ সেনাদের।

ঢাকার পরে চট্টগ্রাম নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানি সামরিক জান্তার লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী প্রতিরোধের মুখে পড়ে। বরিশাল, ফরিদপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহীসহ নতুন নতুন জায়গা থেকে নানা পর্যায়ের প্রতিরোধের খবর আসতে থাকে।

জীবন বাঁচাতে এপারের মানুষের ঢল নামে ওপার বাংলায়। সে সময়ের বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩০ মার্চেই সেই সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। বাঙালি নারী-শিশু-বৃদ্ধদের সীমান্ত পারের এমন মানবিক বিপর্যয় ১৯৪৭ এর দেশভাগের সময়ও হয়নি বলে নানা সময়ে গবেষকরা উল্লেখ করেন।

ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পার্লামেন্টে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতি তার নিজের, ইন্ডিয়ান জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে একাত্মতা ও সংহতি ঘোষণা করেন।

যার যা আছে তাই নিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর বাঙালি সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

এই ৩০ এবং ৩১ মার্চ গাংনী উপজেলায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে আনসার মুজাহিদ ও সাধারণ জনগণের লড়াই হয়।

একাত্তরের এই দিনে নাটোরের লালপুরে ‘ময়নার যুদ্ধে’ হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে সাঁওতাল ও বাঙালিরা সম্মিলিতভাবে। সেটি ছিল সম্মুখযুদ্ধ।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading