ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড: মার্কিন সেই কর্মকর্তার ৪০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে

ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড: মার্কিন সেই কর্মকর্তার ৪০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে

উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০২১ | আপডেট: ১৬:১৫

আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার ৪০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এমনটাই ধারণা করছেন দেশটির আইনজীবিরা। এই ঘটনায় যে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, ৪৫ বছর বয়স্ক ডেরেক চাওভিন তাদের মধ্যে প্রধান আসামি। তবে চাওভিন তার বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে এই মামলায় তার ৪০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। তাকে ইতোমধ্যে পুলিশ বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিচার শুরু হওয়ার আগে মিনিয়াপোলিস শহরে জর্জ ফ্লয়েডের পরিবারের সদস্যরা এক প্রার্থনায় অংশ নেন। তার ভাই টেরেন্স ফ্লয়েড বলেন, ‘আমরা ঈশ্বরপ্রেমী মানুষ, আমরা গির্জায় যাওয়া মানুষ। কাজেই আমরা শেষপর্যন্ত এই কথাটাই বলতে চাই- আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার চাই।’

জর্জ ফ্লয়েডের আরেক ভাই ফিলোনাইস ফ্লয়েড বলেন, ‘আমার বুকে একটা বিরাট ক্ষত তৈরি হয়েছে। এই ক্ষত আমি সারাতে পারবো না। এজন্যে দরকার জর্জ ফ্লয়েডের জন্য ন্যায়বিচার। এই মামলায় অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করতে হবে।’

এই বিচার টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। যে ১৪ জন জুরি বিচারে অংশ নিচ্ছেন, তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।

পুলিশ কর্মকর্তা চাওভিন যেভাবে হাঁটু দিয়ে জর্জ ফ্লয়েডকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছিলেন, সেই ভিডিও আদালতে দেখানো হয়। যখন এই ভিডিওটি দেখানো হচ্ছিল, তখন জুরিরা হাতকড়া পরা অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা জর্জ ফ্লয়েডের গোঙানি শুনতে পান। তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিনকে বার বার অনুরোধ করছিলেন তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য।

বাদিপক্ষের কৌঁসুলি জেরি ব্লাকওয়েল বলেন, ‘৯ মিনিট এবং ২৯ সেকেন্ড। এত লম্বা সময় ধরেই এই ঘটনা ঘটেছিল।’

আদালতে যখন ভিডিওটি দেখানো হচ্ছে, তখন ডেরেক চাওভিন গ্রে স্যুট এবং নীল টাই পরে আসামিপক্ষের টেবিলে বসে ছিলেন। তাকে একটি হলুদ প্যাডে নোটও নিতে দেখা যাচ্ছিল। বাদিপক্ষের কৌঁসুলি জেরি ব্লাকওয়েল তার যুক্তি-তর্ক শুরু করেন এই বলে যে, ৪৪ বছর বয়সী ডেরেক চাওভিন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তার ব্যাজের সম্মান রক্ষা করেননি, কারণ তিনি জর্জ ফ্লয়েডের ওপর মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছেন, অযৌক্তিক বল প্রয়োগ করেছেন।

‘তিনি তার হাঁটু দিয়ে জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড় এবং পিঠ চেপে ধরে রেখেছিলেন, তার শেষ নিঃশ্বাসটি বেরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত।’

জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার বিচারকে আমেরিকা বর্ণবাদ, বিভিন্ন বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক এবং পুলিশের জবাবদিহিতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকা পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে যখন কোনো অভিযোগ আনা হয়, তখন তাদের সাজা পাওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।

গত বছর মিনিয়াপোলিস শহরে পুলিশের কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিন হাঁটু দিয়ে জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড় চেপে ৯ মিনিট ধরে বসে থাকায় তার মৃত্যু হয়। ইতোমধ্যে এ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ১৪ জন জুরির সবাই যদি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আসেন, কেবল তবেই ডেরেক চাওভিনকে দোষী বলে রায় দেয়া যাবে। জুরিদের মধ্যে ছয়জন শ্বেতাঙ্গ নারী, তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ, দুজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ, দুজন মিশ্র বর্ণের নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী।

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading