চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ উদ্বোধনের এলো ৮ ট্রেন

চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ উদ্বোধনের এলো ৮ ট্রেন

উত্তরদক্ষিণ| রবিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১| আপডেট ১৪:১০

ব্যবসাবান্ধব হয়ে ওঠছে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ। এটি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া মধ্যকার পঞ্চম রেলসংযোগ করতে হতো। সেখানে চিলাহাটি দিয়ে মাত্র ৬০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেই সাশ্রয়ী পণ্যপরিবহন সম্ভব হচ্ছে। একারণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এই পথে পণ্য আমদানিতে আগ্রহী।

শেখ হাসিনার হাত ধরে জেগে উঠেছে উত্তরের জনপদ। সেই সঙ্গে মুখরিত হয়ে উঠেছে চিলাহাটি ঐতিহাসিক রেলস্টেশন। ৫৫ বছর পর ১ আগস্ট প্রথম পণ্যবাহী ট্রেন আসে বাংলাদেশে। এরপর আর থেমে থাকেনি এই রেলপথটি। আসতে থাকে একের পর এক পণ্যবাহী ট্রেন। উদ্বোধনের মাঝেই আসলো ৮টি ট্রেন। তাতে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি হয়েছে।

রেলভবন জানিয়েছে, ইন্ডিয়া থেকে রহনপুর হয়ে পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশে পৌঁছাতে অতিক্রম করতে হতো ২১০ কিলোমিটার পথ। চিলাহাটি রেলপথ চালু হওয়ায় দূরত্ব কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০ কিলোমিটারে। এক্ষেত্রে সাশ্রয় হয়েছে ১৫০ কিলোমিটার পথ। এখন ভারত থেকে এপথে পাথর পরিবাহিত হচ্ছে। খাদ্য পরীক্ষাগার (ল্যাব) স্থাপনের পর চাল, গম ইত্যাদি খাদ্যশস্য আমদানি করা হবে।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ১৫টি পণ্য ট্রেন আসার কথা রয়েছে। দিন দিন এর সংখ্যা আরও বাড়বে। যেসব ব্যবসায়ীরা নানা রকমের ঝক্কিঝামেলা মোকাবিলা করে জলপথে পাথর আমদানি করতেন, এখন তারাও রেলপথে ঝুঁকছেন।

বাংলাদেশের প্রিমিয়ার সিমেন্টের বৈদেশিক বাণিজ্যিক মুখপাত্র ড. সালাহ্ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ার মধ্যে কানেক্টিভিটি এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ইন্ডিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চালে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে সিমেন্টের চাহিদা বেশ। দু’দেশের মধ্যে ১০টি জলপথ রয়েছে। কিন্তু উত্তরপূর্ব ইন্ডিয়ার আসাম ও ত্রিপুরার মধ্যে থাকা জলপথ নাব্যতা সঙ্কটে সকল সম্ভাবনা আটকে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা জলপথে পণ্যপরিবহনে বেশ আগ্রহ হয়ে উঠেছিলো। প্রিমিয়ার সিমেন্ট দাউদকান্দি-ত্রিপুরার সোনামুড়া এবং আশুগঞ্জ-আসামের করিমগঞ্জে নৌরুটে উদ্বোধনী পণ্যপরিবহন করেছে। কিন্তু নাব্যতা সঙ্কটে আমাদের আশা ফিকে হয়ে আসছে।

বাংলাদেশে মেগাপ্রকল্প ছাড়াও নদী শাসনসহ নানা মুখী উন্নয়মমূলক কাজ চলছে। এসব কাজে বিপুল পরিমাণের পাথরের চাহিদা রয়েছে। ইন্ডিয়ার ঝাড়খন্ডের পাকুর, আসামসহ বিভিন্ন স্থান ছাড়াও ভূটান থেকে ইন্ডিয়া হয়ে পাথর আসে বাংলাদেশে। উত্তরের ব্রহ্মপুত্র, যমুনা জলপথ, বুড়িমারি-চেংড়াবান্দা, মালদহের মাগদিপুর-সোনামসজিদ এবং উত্তরপূর্ব ইন্ডিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে পাথর আমদানি হচ্ছে বাংলাদেশে।

উত্তরপূর্বাঞ্চল ছাড়া পাথর ও পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে চিলাহাটি-হলদেবাড়ি রেলপথকে বেছে নিয়েছেন উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা। যাত্রী ট্রেন চালু হলে সামনের দিনগুলোতে এই রেলপথটি গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যাবে। আন্তর্জাতিক মানের রেলস্টেশন নির্মাণ হচ্ছে চিলাহাটিতে। এরই মধ্যে ইন্ডিয়ার ট্রেন নিয়ে আসা স্টাফদের জন্য বাংলো টাইপের দ্বিতল ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া সঙ্গে পঞ্চম এই রেলসংযোগটি নতুন উদ্যোগের কাজের তদারকি করতে বার বার ছুটে গিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সূজন। কেবল যে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলসংযোগ তা কিন্তু নয়, পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা অবধি রেলসংযোগের কাজও চলছে। রেলকে গতিশীল এবং যাত্রীবান্ধব করতে রেলপথ মন্ত্রণালয় নামে আলাদা একটি মন্ত্রণালয় করে দেন শেখ হাসিনা। বর্তমান রেলমন্ত্রী দেশজুড়ে রেলের উন্নয়নের বিরামহীন কাজ করে চলেছেন।

কেএস

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading