মুকেশ আম্বানি: এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২২ । আপডেট ১৩:৫০
বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত রিলায়েন্স গ্রুপের মালিক মুকেশ আম্বানি শুধু ইন্ডিয়া নয়, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদশালী মানুষদের একজন। তার মোট সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য হচ্ছে ৯৬.৯ বিলিয়ন আমেরিকান ডলার যা ইন্ডিয়ান মুদ্রায় প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকা। ইন্ডিয়ার প্রথম তথা এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হচ্ছেন মুকেশ আম্বানি। এশিয়ার প্রথম ধনী ব্যাক্তি মুকেশ আম্বানির সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন সাইফুল অনিক।
মুকেশ আম্বানি যেখানে হাত দিয়েছেন, সেখানেই সোনা ফলেছে। কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক সিদ্ধান্তের বদৌলতে তিনি আজ এ জায়গায় এসেছেন। এমনকি কোভিডের মধ্যে গত দুই বছরে তার সম্পদ অনেক বেড়েছে। বর্তমানে ইন্ডিয়ার অন্যতম সেরা শিল্পপতি হলেও একসময় খুব সাধারণ জীবনযাপন ছিল আম্বানি পরিবারের। কিন্তু তার কিছু করে দেখানোর জেদের কারণেই রিলায়েন্সের বিশাল সাম্রাজ্যের উত্থান।
মুকেশ আম্বানির পরিচিতি
তার পুরো নাম মুকেশ ধিরুভাই আম্বানি। তবে তিনি মুকেশ আম্বানি নামেই সর্বাধিক পরিচিত। তিনি একজন ইন্ডিয়ান ধনকুবের। তিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বৃহৎ শেয়ারের মালিক। রিলায়েন্স ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির একটি এবং বাজার মূল্যের দিক থেকে ইন্ডিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি। তিনি পরবর্তীতে কলাবাতে “সি উইন্ড” নামে একটি ১৪ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করেন। মুকেশ ও অনিল সেখানে তাদের পরিবারের সাথে কিন্তু ভিন্ন দুটি তলায় বাস করতেন।
মুকেশ আম্বানির জন্ম
মুকেশ আম্বানি ইন্ডিয়ান নাগরিক হলেও ১৯৫৭ সালের ১৯ এপ্রিল ইয়েমেনে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ধিরুভাই আম্বানি এবং মায়ের নাম কোকিলাবেন আম্বানি। তিনি তার বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। অনিল আম্বানি হলেন মুকেশ আম্বানির ছোট ভাই। তারা দুই ভাই ও দুই বোন।
মুকেশ আম্বানির শিক্ষাজীবন
মুকেশ আম্বানি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে আমেরিকার স্টানফোর্ড থেকে এমবিএ করেন। ১৯৮০ সালে তিনি স্টানফোর্ড থেকে পড়াশোনা শেষ করেন।
রিলাইন্স-এর বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ
বর্তমানে মুকেশের দেশ ইন্ডিয়া গোবর পুড়িয়ে যে জ্বালানি উৎপাদন করে তাতেও তার অবদান রয়েছে। রিলায়েন্স এখন পৃথিবীর বৃহত্তম তেল শোধনাগার নির্মাণ করেছে। ২০১৩ সালে ইন্ডিয়া পৃথিবীর তেল উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে ২৩তম অবস্থান অর্জন করেছে। আম্বানির নেতৃত্বে তেল এবং জ্বালানি বিশ্বে রিলায়েন্স একটি সমৃদ্ধশালী নামে পরিণত হয়েছে। কোম্পানি ইন্ডিয়াবাসীর খাবারের জন্য ৭০০টি দোকান খুলেছে। আম্বানির প্রতিশ্রুতি যে এসব দোকানের মাধ্যমে ইন্ডিয়ার জমকালো নগরী থেকে প্রান্তিক এলাকায় অর্থ পৌঁছে যাবে।
আগামী পাঁচ বছরে আম্বানির লক্ষ্য, রিলায়েন্স প্রতি বছর ৪০ বিলিয়ন আমেরিকান ডলার রাজস্ব আয় করবে এবং ১৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ইন্ডিয়ানের চাকরির ব্যবস্থা করবে। এমনকি নতুন আঙ্গিকে রিলায়েন্সের ক্ষমতা গ্রহণের পর আম্বানি পেট্রোকেমিক্যাল, তেল, গ্যাস এবং টেক্সটাইলের ব্যবসায় আধিপত্য ধরে রাখতে চান। ইন্ডিয়ার কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় রিলায়েন্সের মুদির দোকানগুলো কৃষকদের আরো উৎপাদনশীল করে তুলেছে।
২০১৩-১৪ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী তার কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (আরআইএল) সম্পদের পরিমাণ ৪,০১,৩০২ কোটি রুপি। এর আগের অর্থবছরে ছিল ৩,৭১,১১৯ কোটি রুপি।
এশিয়ার শীর্ষ ও বিশ্বের ১০ম ধনী
মুকেশ আম্বানি শুধুমাত্র উপমাহাদেশের শীর্ষ ধনী নন। এশিয়ার শীর্ষ ধনীদের তালিকায়ও তিনি রয়েছেন সবার শীর্ষে। তার মালিকানাধীন ‘রিলায়েন্স’ নামক প্রতিষ্ঠানটি ইন্ডিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কোম্পানি। ইন্ডিয়ার জামনগরে অবস্থিত পৃথিবীর তৃণমূল পর্যায়ে থাকা সর্ববৃহৎ পেট্রোলিয়াম পরিশোধনাগারটির পরিচালনার দায়িত্বে আছেন মুকেশ আম্বানি। ২০২২ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়া ও এশিয়ার সেরা ধনী মুকেশ আম্বানি বিশ্বের সেরা ধনীদের তালিকায় ১০ম স্থানে অবস্থান করছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাড়ি অ্যান্টিলিয়া’র মালিক
বিশ্বের সেরা ধনীর খেতাব অর্জন করতে না পারলেও বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়ির মালিকানার খেতাব মুকেশ আম্বানির দখলে। আম্বানির পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছয়। এই ছয়জন সদস্যের জন্য বাড়ি বানানো হয়েছে ৪ লাখ বর্গফুটের। বাড়িটির নাম রাখা হয়েছে ‘অ্যান্টিলিয়া’। যার ফ্লোর সংখ্যা ২৭। ২০০২ সালে মুকেশ আম্বানি মুম্বাই নগরীতে ৪৯ হাজার বর্গফুট জায়গা কিনে নেন। সাত বছরের নির্মাণ কাজে ব্যয় করা হয়েছে ১শ’ কোটি ডলার। বাড়িটির উচ্চতা ১৭৩.১২ মিটার, যা একটি সাধারন ৬০ তলা দালানের উচ্চতার সমান।
প্রথম ৬ তলা নির্ধারন করা হয়েছে কার পার্কিং স্পেস হিসেবে। আমদানী করা ১৬৮টি লাক্সারী গাড়ি ব্যবহার হয় শুধুমাত্র পরিবারের প্রয়োজনে। সপ্তম তলা রাখা হয়েছে গাড়ির সার্বিক রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ওয়ার্কশপ হিসেবে। অষ্টম তলায় রয়েছে একটি বিশাল বিনোদন কেন্দ্র, এখানে নির্মান করা হয়েছে ৫০ জনের আসনক্ষমতা নিয়ে একটি মিনি থিয়েটার। নবম তলা রিফিউজ ফ্লোর, জরুরী প্রয়োজনে উদ্ধার কাজের জন্য এটি ব্যবহার হবে। তার উপরের দুটি ফ্লোর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। একটিতে রয়েছে সুইমিংপুল সহ খেলাধুলার সব সরঞ্জাম।
স্ত্রীর জন্মদিনে বিমান উপহার
মুকেশ আম্বানি ২০০৭ সালে তার স্ত্রী নীতা আম্বানির ৪৪তম জন্মদিনে একটি বিমান উপহার দেন। নীতা আম্বানিকে যেই বিমানটি উপহার দেওয়া হয় তাতে রয়েছে একটি অফিস, গেম কনসোল, মিউজিক সিস্টেম, স্যাটেলাইট টেলিভিশন এবং ওয়্যারলেস কমুনিকেশন সিস্টেমসহ বিনোদন কেবিন। এছাড়া আছে একটি মাস্টার বেডরুম, অত্যাধুনিক শাওয়ারসহ বাথরুম এবং মুড লাইটিং সমৃদ্ধ এন্টারটেইনমেন্ট বার। মুকেশ আম্বানি ১৯৮৪ সালে বিয়ে করেন নীতা আম্বানিকে।
আম্বানির মোট সম্পদ
ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, মুকেশ আম্বানির মোট সম্পদ এখন ৯৬.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা টি ওয়ারেন বাফেটের ১০২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পত্তির চেয়ে মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার কম।
ইউডি/অনিক

