মহানায়ক হিসেবে বিশ্বমঞ্চে দ্যুতি ছড়িয়েছেন বঙ্গবন্ধু

মহানায়ক হিসেবে বিশ্বমঞ্চে দ্যুতি ছড়িয়েছেন বঙ্গবন্ধু

মোহাম্মদ আশফাজ্জামান মিয়া । শুক্রবার, ২০ মে ২০২২ । আপডেট ১০:৩৫

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আর এই গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের নায়ক একজন। তিনি আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি মহানায়ক, মহাননেতা, আমাদের জাতির পিতা। বাঙালি আর বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্দ হয়ে উঠেছিলেন শেখ মুজিব। টুঙ্গিপাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নায়ক হয়ে উঠে এসেছেন জাতীয় অঙ্গণে, এরপর মহানায়ক হিসেবে দ্যুতি ছড়িয়েছেন বিশ্বমঞ্চে।

বাংলার শোষিত, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তিই ছিল তার জীবনের মূল লক্ষ্য ও আদর্শ। যে লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি আজীবন শুধু সংগ্রামই করে গেছেন। বাংলার মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বারংবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। মাত্র ৫৪ বছরের (১৯২০-১৯৭৫) জীবনকাল তার। শৈশব ও কৈশোরকাল পেরিয়ে ৩০ বছরের মতো তার রাজনৈতিক জীবন। এর মধ্যে তের (১৩) বছরই কাটিয়েছেন জেলখানায়। মোট ১৮ বার কারারুদ্ধ হয়েছিলেন। ২৪টি মামলা তিনি সাহসের সঙ্গে লড়েছেন। মৃত্যুর সামনে থেকে ফিরে এসেছেন ২ বার। বস্তত জেল-জুলুম-নিপীড়ন তার জীবনে এক নিয়মিত অধ্যায়ে পরিণত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিজীবন বলতে কিছুই ছিলনা। তাঁর চিন্তা-চেতনা, ধ্যান, সপ্ন, কর্ম সবই ছিল দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য। তাঁর পুরো জীবনটাই ছিল বাঙালির জন্য নিবেদিত তাই ফাঁসির মঞ্চকেও কখোনো তিনি ভয় পাননি। ভোগ নয়, রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছিল ত্যাগের। বঙ্গবন্ধু রাজনীতিতে নীতি-আদর্শকে সর্বোচ্চ স্থান দিতেন। তাঁর রাজনীতির লক্ষ্য নিছক ক্ষমতায় যাওয়া ছিল না, তা ছিল বাঙালির অধিকার আদায় বা জাতীয় মুক্তি অর্জনে নির্দেশিত।

বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির মূল দর্শন ছিল বাঙালির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি অর্জন। তিনি ছিলেন বাংলার অবিসংবাদিত নেতা। সারা জীবন নির্লোভ ও নির্মোহ থেকে বাংলার মানুষের অধিকার নিয়ে লড়াই করেছেন। বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে তিনি ছিলেন সম্পূর্ন আপসহীন। অসাধারণ ধৈর্য, সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে তিনি তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে অসংখ্য অগ্নি-পরীক্ষার মধ্যদিয়ে পাকিস্তানি শাসক ও শোষকচক্রকে রুখে দাঁড়িয়ে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম দিয়ে গেছেন। যা বিশ্বে বিরল। তাঁর অদম্য সাহস, ইস্পাত-কঠোর সংকল্প, আদর্শ ও লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠা এবং জনগণের ঐক্য ও সংহতিতে প্রগাঢ় বিশ্বাস থেকে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করার মুহূর্তেও তিনি এক বিন্দু সরে আসেননি।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading