কর্মগুণে বিশ্ব মানবতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু
সারোয়ার মুক্তাদির । বুধবার, ০১ জুন ২০২২ । আপডেট ১০:১০
বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ ঠাঁই পেয়েছে যে মহান নেতার কঠিন সংগ্রাম, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা এবং অসাধারণ নেতৃত্বগুণে, তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি হতো না। হাজার ষড়যন্ত্রের ঘেরাটোপে থেকেও অনেক কষ্ট, নিপীড়ন, নির্যাতন সহ্য করেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার মানুষের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামের পথ থেকে সরে কিংবা পিছিয়ে আসেননি।
দীর্ঘ সংগ্রাম, আন্দোলনের পথ পাড়ি দিয়ে বাংলার মানুষের জন্য কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর সারাটি জীবন অকাতরে উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য। শোষণমুক্ত স্বাধীন সোনার বাংলা গড়তে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। তাঁর নিঃস্বার্থ অবিচল সাহসী নেতৃত্বগুণ তাকে অনন্য, অসাধারণ করে তুলেছিল। বঙ্গবন্ধু বিশ্ব মানবতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, তাঁর অনবদ্য কর্মগুণে। তিনি হয়েছিলেন বাংলাদেশের জাতির জনক, পরিণত হয়েছিলেন সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা আর শোষণ-বঞ্চনা থেকে বাঙালি জাতির মুক্তিদাতা। তাঁর অনুভবে ছিল বাংলার স্বাধীনতা, ছিল শোষকদের কবল থেকে এদেশের নিপীড়িত বঞ্চিত শোষিত মানুষের মুক্তি।
বঙ্গবন্ধু সারা জীবন বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, কিন্তু কখনো বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ঘৃণা সৃষ্টি ও সংঘাতের রাজনীতি করেননি। মানুষের জন্য ভালোবাসা ছিল বঙ্গবন্ধুর কর্মকাণ্ডের প্রেরণা এবং মানুষের কল্যাণই ছিল তাঁর কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য। এই মানবিক মূল্যবোধই তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল রাজনৈতিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে, যা প্রতিফলিত হয় তার বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শে, যেমন গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও সমাজতন্ত্র। তিনি প্রায়ই বলতেন, তার সারা জীবনের স্বপ্ন হচ্ছে ‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো’।তার এই অভিব্যক্তি থেকেই আমরা বুঝতে পারি সমাজ উন্নয়ন সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল কত ব্যাপক এবং বহুমাত্রিক। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর আকাঙ্ক্ষা খুব ছোটবেলা থেকেই আমরা বঙ্গবন্ধুর কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ করি। স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তিনি একই সঙ্গে ছাত্র রাজনীতি এবং সমাজসেবার কাজে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী। ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি চাইতেন নির্যাতিত মানুষের শোষণমুক্তি এবং ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্যের দূরীকরণ।তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল দরিদ্র, নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।
ইউডি/সুস্মিত

