করোনা: সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে
সিরাজাম মুনিরা । শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১০:০০
দেশে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে দোকান, শপিংমল, বাজার, হোটেল-রেস্টুরেন্টে সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এছাড়া জনসমাগম এড়িয়ে চলা, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণসহ ৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। বলা হয়েছে, কেউ এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত কয়েকদিন ধরেই করোনা শনাক্তের হার ১৫ শতাংশের উপরে থাকছে। বাস্তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ অনেকের উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা করাচ্ছেন না। এখন সারা দেশে ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর-কাশির রোগী।
কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও দেখা দিচ্ছে। করোনার নতুন ঢেউয়ের উপসর্গ এগুলোই। দেশে হঠাৎ করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির মূল কারণ মানুষের উদাসীনতা। লক্ষ করা গেছে, অনেকে করোনার উপসর্গ নিয়ে সামাজিক দূরত্ব না মেনে মাস্ক ছাড়া জনসমক্ষে চলাচল করছেন। এ অবস্থায় বাড়ছে ভাইরাসটির সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁকি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে গণমাধ্যম।
সাম্প্রতিককালে সারাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্তের হার দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে ও জনসাধারণের মধ্যে মাস্ক পরিধান এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে যথেষ্ট শৈথিল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে মর্মে সরকারের উচ্চ মহলে আলোচনা হচ্ছে। কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ১৪ জুনের সভায় গৃহিত সুপারিশ প্রতিপালনের জন্য এবং কোভিড প্রতিরোধকল্পে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ করা হলো। নির্দেশনাগুলো হলো- স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে সব গণমাধ্যমে অনুরোধ জানাতে হবে। সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি প্রয়োগ করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে। ধর্মীয় প্রার্থনারত স্থানসমূহে (মসজিদ, মন্দির, গির্জা ইত্যাদি) মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। জ্বর, সর্দি, কাশি বা কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা দিলে কোভিড টেস্ট করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দোকান, শপিংমল, বাজার, ক্রেতা-বিক্রেতা, হোটেল রেস্টুরেন্টে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজে খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন।
যেহেতু সরকারি নির্দেশনায় সব জায়গায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেহেতু সবার উচিত ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি প্রয়োগ করা। একইসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সবার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া উচিত। লক্ষ করা গেছে, কিছু শপিংমল ছাড়া এখনো হাট-বাজারসহ প্রায় সর্বত্রই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মাস্ক ছাড়াই চলাচল করছে মানুষ। অতীতেও আমরা লক্ষ করেছি, কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ না নিলে বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে খুব একটা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয় না। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। করোনার প্রকোপ কমে আসায় দেশে বিভিন্ন খাতের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য যখন নানা চেষ্টা চলছে, তখন নতুন করে পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি উদ্বেগজনক।
জানা গেছে, আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ টিকার বুস্টার ডোজ নিয়েছে। টিকা নিলে এর কার্যকারিতা থাকে ৬ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত। সে হিসাবে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে টিকা গ্রহণকারীদের অনেকের শরীরে এর কার্যকারিতা হারিয়ে গেছে। যেহেতু টিকা নেওয়ার পরও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়, তাই সবারই উচিত যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাচল করা। দেশে ১২ বছরের নিচে শিশুর সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি। এরা এখনো টিকা পায়নি। দেশে ৫ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। জন্মসনদ দিয়ে সুরক্ষা অ্যাপে শিশুদের টিকার নিবন্ধন করতে হবে। অভিভাবকদের উচিত টিকার জন্য দ্রুত শিশুদের নিবন্ধন করা। টিকা দেওয়ার পরও কম বয়সি শিশুদের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার একান্ত কাম্য। বুস্টার ডোজের গতি বাড়াতেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলো মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে সক্ষম। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আগামী দিনে নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট তুলনামূলক বেশি সংক্রমণশীল হবে। কাজেই সংক্রমণ এড়াতে সবাইকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
লেখক- সমাজ বিশ্লেষক।
ইউডি/সুস্মিত

