ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক পদক্ষেপ কাম্য

ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক পদক্ষেপ কাম্য

আবুল কালাম আজাদ । বুধবার, ০৩ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১৫:০৫

চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে একটি চক্র বাজার থেকে অপ্রয়োজনে ডলার কিনে মজুত করছে বলে তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও গোয়েন্দা সংস্থা। খোলাবাজার ও বাণিজ্যিক ব্যাংকে ডলারের দাম হুহু করে বাড়ছে। বেশ কয়েকমাস ধরেই ডলারের বাজারে চলছে অস্থিরতা। এর ধারাবাহিকতায় গেলো সপ্তাহে দেশের খোলা বাজারে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১১২ টাকা বিক্রি হয়েছে। তাতে ডলারের বাজারে সংকট তরান্বিত হয়। এরপরেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খোলাবাজারে পরিদর্শন শুরু করে এই নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। বিভিন্ন দেশ করোনা-নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় মানুষের বিদেশ ভ্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মুদ্রামানের বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। আর এরই সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যক্তিরা। শুধু ব্যক্তি নয়, কয়েকটি মানি চেঞ্জার্স, এমনকি বাণিজ্যিক ব্যাংকও এ কারসাজিতে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন দেশ করোনা-নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় মানুষের বিদেশ ভ্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মুদ্রামানের বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। আর এরই সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যক্তিরা। শুধু ব্যক্তি নয়, কয়েকটি মানি চেঞ্জার্স, এমনকি বাণিজ্যিক ব্যাংকও এ কারসাজিতে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। বস্তুত অর্থনীতির নানা কারণে ডলারের দামের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু যখন এক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়, তখনই তা হয় বিপত্তির কারণ। বস্তুত অর্থনীতির নানা কারণে ডলারের দামের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু যখন এক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়, তখনই তা হয় বিপত্তির কারণ। ডলারের অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধির প্রভাব শুধু নিত্যপণ্যের বাজারেই পড়ছে না, এর অজুহাতে প্রতিটি সেবা ও সামগ্রীরই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে এটি দেশের অর্থনীতির জন্যই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ডলারের দাম বাড়ার কারণে ব্যবসায়ীদের এলসি খুলতে সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া খোলাবাজারে অস্বাভাবিক দামের কারণে ডলার পাচারের আশঙ্কাও করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। কাজেই কারসাজি করে ডলারের দামবৃদ্ধির প্রবণতা রোধ করা দরকার কঠোরভাবে। সেক্ষেত্রে বাজারে কোন কোন গোষ্ঠী বা চক্র ডলার কারসাজিতে জড়িত, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা জরুরি।

ডলার কারসাজির সঙ্গে জড়িত চক্র বা হোতাদের একটি অংশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্প্রতি তাদের তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে তিনটি মানি চেঞ্জার্স প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই অভিযোগে আরও ২টি মানি চেঞ্জার্স প্রতিষ্ঠনের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে আজ-কালের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠি দেওয়া হবে। লাইসেন্স ছাড়া মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায় করায় ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, যে তিনটি মানি চেঞ্জার্স প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে-রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকার বিসমিল্লাহ মানি চেঞ্জার্স, নয়াপল্টনের ফয়েজ মানি এক্সচেঞ্জ ও পুরানা পল্টনের অংকন মানি চেঞ্জার্স লিমিটেড। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল মানি চেঞ্জার্স প্রতিষ্ঠানগুলোতে তদন্ত করে। তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর ডলার বিক্রি ও কেনার তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো পর্যালোচনা করে ওই ৩টি প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের অনিয়ম পেয়েছে। এ কারণে তাদের সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিত করেছে। বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না এ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে ডলার কিনে তা খোলাবাজারে বিক্রি এবং ডলার মজুতের তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বিশদ তদন্ত করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও মানি চেঞ্জার্স প্রতিষ্ঠানগুলোয় এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খোলাবাজারে তদন্ত শুরু করলে ডলারের দাম কমতে থাকে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সংকটের কারণে ডলারের দাম আরও বাড়তে পারে-এমন প্রত্যাশা থেকে অনেকেই ডলার মজুত করতে শুরু করে। বেআইনিভাবে ব্যাংক ও খোলাবাজার থেকে ডলার কিনে সেগুলো নিজেদের কাছে মজুত করে রাখে। এতে বাজারে ডলারের সংকট দেখা দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য রিজার্ভ থেকে ডলার ছেড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। পুঁজিবাজারে অস্থিরতা এবং ব্যাংক আমানতের সুদের হার কম হওয়ায় অনেক সাধারণ মানুষও হয়তো ডলার কিনে মজুত করছেন পরে দামবৃদ্ধির আশায়। সামগ্রিকভাবে এর পরিমাণ হয়তো খুব বেশি নয়; তবে বিষয়টি মাথায় রেখে মানুষের সঞ্চয়ের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করা উচিত। ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেবে এটাই কাম্য।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading