একজন বঙ্গবন্ধু এবং একটি বাংলাদেশ

একজন বঙ্গবন্ধু এবং একটি বাংলাদেশ

রায়হান আহমেদ । সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ০১:১০

বাঙালি জাতীয়তাবাদ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধুলিসাৎ করার চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র পরিণতি পেয়েছিল ১৯৭৫ সালের এই আগস্ট মাসে। ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরেই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের রক্তে রঞ্জিত হয় সদ্য স্বাধীন দেশের মাটি। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে শেকড় থেকে উপড়ে ফেলতে হত্যা করা হয় পুরো পরিবার ও স্বজনদের। এই আগস্টেই জাতির কলঙ্কিত এক অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছিল। ১৯৭৫ সালের আগস্টের মধ্যভাগে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ইতিহাসের এই মহানায়কের বুকের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল শ্যামল বাংলার মাটি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে সপরিবারে জাতির পিতা হত্যার সঙ্গে একাত্তরের পরাজিত শত্রুদট ষড়যন্ত্র আর হামলার শিকার হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মহান আদর্শ এবং চেতনাও। বঙ্গবন্ধু শুধু একজন জাতীয় নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইতিহাসের এক সর্বশ্রেষ্ঠ মহানায়কও।

পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক ও জনসাধারণের অসন্তোষ দমনে ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে। সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরু হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ঘটে। পাকি শাসকবৃন্দ বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্তি দেই। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

সেদিন তিনি ঢাকায় জড়ো হওয়া প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সামনে বক্তৃতা দেন। এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি থেকে প্রধানমন্ত্রী হন। রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের অথনৈতিক ভিত শক্ত করার কাজে মনোনিবেশ করেন তিনি। আজ যে বাংলাদেশে আমরা মুক্তির স্বাদ নিচ্ছি, স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা উড়াচ্ছি তা বঙ্গবন্ধু না হলে সম্ভব হতো না। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য-এই মৌলিক অধিকারগুলো পূরণের মাধ্যমে বাংলার মানুষের উন্নত জীবন প্রতিষ্ঠাই ছিল তার আদর্শ। বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং বাঙালি জাতি যেন একটি শোষণমুক্ত একটি সমাজ ব্যবস্থায় বসবাস করতে পারেন এটাই তার সারা জীবনের স্বপ্ন। এই স্বপ্নই হচ্ছে আদর্শের বহিঃপ্রকাশ। তার অন্যতম ছিল বাঙালি জাতির একটি নিজস্ব ভূমিসত্তা, যে ভূমিতে বাঙালি তার নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারবে, তার নীতি সে নিজেই পরিচালনা করতে পারবে এবং বাঙালির সংস্কৃতি সে নিজেই পরিচালনা করবে। জনগণকে অর্থনৈতিক মুক্তি দেয়া, জনগণকে ক্ষমতায়ন করা, ধর্মনিরপেক্ষ থাকা, মানুষের জন্য কাজ করা, নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য নিজের বিলিয়ে দেওয়া জাতির পিতার অন্যতম আদর্শ। যে কারণে তিনি জনগণের দাবি আদায়ের জন্য এক আদর্শবাদী ও আত্মত্যাগী নেতা হিসেবে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি চেয়েছিলেন দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, কৃষি এবং শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণকে একটি জনমুখী প্রশাসন ব্যবস্থা উপহার দেওয়া। জাতির পিতার দ্বিতীয় বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় আমরা দেখতে পাচ্ছি জাতির পিতার সেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ফলে আজকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা পাকিস্তানের থেকে কম। তার যে খাদ্য উৎপাদনের নীতি তা আজ প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করছে। যার ফলে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুকন্যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনমুখী ও দুর্নীতিমুক্ত একটি সরকার ব্যবস্থা। যদিও এটি একটি কঠিন কাজ। তবু বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সেদিকেই এগুচ্ছে। জাতির পিতার রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে নিজেকে তৈরি করা এবং বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক মুক্তি, নিজস্ব ভূমিসত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমাদের মাঝে রেখে গেছেন। যা তিনি ছাত্রজীবন থেকে শুরু করেছেন। তার জীবনে জনগণই ছিল অন্তঃপ্রাণ। মানুষের দুঃখে তার মন কাঁদত। জনগণের মুখে হাসি ফুটানো তার অন্যতম একটি আদর্শ।

লেখক : কলামিস্ট।

ইউডি/সিফাত

Taanjin

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading