ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী: সব ব্যাংকেই টাকা আছে-গুজবে কান দেবেন না

ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী: সব ব্যাংকেই টাকা আছে-গুজবে কান দেবেন না

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৩:৪৫

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় কাউন্সিল উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘টাকা না থাকার গুজব’ ছড়িয়ে একটি শ্রেণি মানুষকে ‘বিভ্রান্ত করতে চাইছে’। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন সাদিত কবির

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জবাব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছিলাম বলে ঘর ভরে গেছে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের এর উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, জবাবটা বেশি কিছু না, ওরা যখন আমাদের বিরুদ্ধে যেটা লেখে তার জবাবে ওদের অপকর্মটা যদি কমেন্টে ছেড়ে দেয়া যায়, তাহলেই ওরা ওটা বন্ধ করে দেবে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে ভাল।
ছাত্রলীগ কর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মেধাবী ছাত্ররা, তাদেরকে কিন্তু প্রত্যেকেই যারা মেধাবী, তাদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা যেমন নিজেরা করতে হবে, কারিগরি শিক্ষা নিতে হবে সেখানে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিতে হবে। কারণ আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হলে দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থাও দরকার। ছাত্রলীগ যেন প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের মেধার বিকাশের একটা সুযোগ পায় এবং সেই কাজকর্ম করতে পারে সেটাই আমি চাই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ও দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রনীল দেব শর্মা রনি যথাক্রমে কাউন্সিলে সাংগঠনিক প্রতিবেদন ও শোক প্রস্তাব পেশ করেন।

আল্লাহর রহমতে কোনো সমস্যা নাই: দেশের ব্যাংকগুলোতে ‘টাকা না থাকার গুজব’ ছড়িয়ে একটি শ্রেণি মানুষকে ‘বিভ্রান্ত করতে চাইছে’ মন্তব্য করে সেই গুজবে কান না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কিছু গুজব ছড়াচ্ছে। কী? ব্যাংকে টাকা নেই। টাকা নেই বলে অনেকে টাকা তুলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি আগেও বলেছি, এখনো বলি যে এদের কি চোরের সাথে কোনো সখ্যতা আছে কিনা যে ব্যাংকের থেকে টাকা নিয়ে ঘরে রাখে চোরের পোয়াবারো। চোর চুরি করে খেতে পারবে, সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছে নাকি কেউ কেউ, আমি জানি না। দেশের ব্যাংকগুলোতে কোনো সমস্যা নেই দাবি করে তিনি বলেন, আমি একটা কথা স্পষ্ট জানাতে চাই- আমি গতকালকে (সোমবার) রাতে আমাদের যেমন এসডিজি এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সেই মিটিং করেছি। এরপরে আমি আবার অর্থ সচিব এবং আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে আমি কথা বলেছি। আজকে সকালে আমি অর্থমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি। আল্লাহর রহমতে আমাদের কোনো সমস্যা নাই। প্রতি ব্যাংকেই টাকা আছে। গুজবে কান দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই আমি বলব- গুজবে কেউ কান দেবেন না। গুজবে কান দেবেন না। এটাই আমার সকলের কাছে একটা অনুরোধ যে যারা এইসব মিথ্যা কথা বলে মানুষকে তারা ভাওতাবাজি দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চায়, এটা একটা শ্রেণি আছে। তারা এটা করবেই আমি জানি। আর মিথ্যা কথায় তারা পারদর্শী।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ০৭ ডিসেম্বর, ২০২২ । প্রথম পৃষ্ঠা

ক্ষমতায় এলে বিএনপি ভূতের রূপ নেয়: বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতাই চায়নি তারা এ দেশের উন্নয়ন কখনোই দেখবে না। মানুষ সামনের দিকে আগায়, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পেছনে যায়, ভূতের মতো। তারা মনে হয়, আমাদের দেশে ভূতের রূপ নিয়েই আসে। তিনি বলেন, মানুষের ভোট চুরি করলে মানুষ ছেড়ে দেয় না-এটা খালেদা জিয়ার মনে থাকা উচিত। জনগণ স্বতঃফূর্তভাবে আমাদের ভোট দেয়। ভোট কারচুপির কালচার দিয়েছে জিয়াউর রহমান। হ্যাঁ-না ভোট দিয়ে জনগণের ভোট ছিনিয়ে নিয়েছে। না ব্যালট পাওয়া যায়নি। সব হ্যাঁ ভোট ছিল। সরকারের ঢালাও সমালোচক তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেনীর কঠোর সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষও জিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তখন কথা বলেছিলেন। এখনো অনেকে আছেন খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের সঙ্গে। মানি লন্ডারিং, অস্ত্র কারবারি ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি তারেক। খালেদা জিয়া এতিমের টাকার আত্মসাতের মামলার আসামি। এই অপরাধীদের সঙ্গে এখন অনেক জ্ঞানী-গুণীও গণতন্ত্রের কথা বলেন। তারা বুদ্ধিজীবী নন, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীজীবী। তারা খালেদা-তারেকের সঙ্গে গিয়ে মিলেছেন। ছাত্রদলের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়ার পেটুয়া বাহিনী সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। শুধু ক্ষমতায় থাকাকালেই নয়, ক্ষমতার বাইরে থেকেও তাদেও অগ্নিসন্ত্রাসের কথা সবার জানা।

ইউডি/এজেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading