চিপ উৎপাদনে আধিপত্য ধরে রাখতে চায় টিএসএমসি

চিপ উৎপাদনে আধিপত্য ধরে রাখতে চায় টিএসএমসি

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ২১:০০

তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট টিএসএমসি চলতি সপ্তাহে আমেরিকার অ্যারিজোনায় ৪০ বিলিয়ন (চার হাজার কোটি) ডলার ব্যয়ে নির্মিত একটি চিপ উৎপাদনকেন্দ্র উদ্বোধন করে। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও অ্যাপলের সিইও টিম কুক। তারা এ উৎপাদনকেন্দ্র থেকে সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির চিপ সরবরাহের ব্যাপারে আশাবাদী।

অথচ নিজ দেশ তাইওয়ানে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিপনির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসির ওপর চাপ বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বেশ অস্বস্তিতে রয়েছে সংস্থাটির কর্তৃপক্ষ। এজন্য দেশের বাইরে বিনিয়োগে উৎসাহী হয়েছেন তারা। তাই আমেরিকার পাশাপাশি জাপানেও একটি উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণ করেছে টিএসএমসি। এছাড়া তারা ইউরোপে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সিএনএন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে জাপানের ওসাকার চুও ওয়ার্ডে সেমিকন্ডাক্টরের জন্য একটি ডিজাইন সেন্টার চালু করেছে টিএসএমসি। এটি জাপানে তাদের দ্বিতীয় উৎপাদনকেন্দ্র এবং তারা কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। নতুন ডিজাইন সেন্টারটি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দিতে সহায়তা করবে।

চিপ নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান টেক-ইনসাইটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জি. ড্যান হাচসন বলেন, ‘সেমিকন্ডাক্টর হোপ ডায়মন্ডের মতো মূল্যবান, সবাই এটি পেতে আগ্রহী। চীনের ক্রেতারা চায় তাদের দেশে সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা হোক; আমেরিকার ক্রেতারা চায় তাদের দেশে এবং ইউরোপিয়ানরা চায় তাদের অঞ্চলেও সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা হোক। হোপ ডায়মন্ড বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ডায়মন্ড এবং এটি সবচেয়ে বড় নীল ডায়মন্ড।’

টিএসএমসি এ সুযোগটি কাজে লাগাতে চায়। প্রতিষ্ঠানটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির চিপ তৈরি করতে চায়। তবে বেইজিংয়ের প্রতি তাইওয়ানের এ অনন্য সম্পদ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছাড়া হওয়াসহ বড় বাজার হারানোর শঙ্কায় রয়েছে তাইপে।

টিএসএমসিকে তাইওয়ানের জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপল ও কোয়ালকমের মতো টেক জায়ান্টের জন্য চিপ সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বে সর্বশেষ প্রযুক্তির সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করে, এটি স্মার্টফোন থেকে ওয়াশিং মেশিন সবখানে সমান প্রয়োজনীয় উপকরণ।

টিএসএমসি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এবং সেইসঙ্গে চীনের কাছেও অত্যন্ত মূলবান। কেননা তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে চীন। তবে কখনও অঞ্চলটি শাসন করতে পারেনি চীনের কর্তৃপক্ষ। তাই বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তাইওয়ানে বেইজিং সামরিক আগ্রাসন শুরু করে জোর করে ক্ষমতা দখল করতে পারে। তবে টিএসএমসির উপস্থিতির কারণে চীনের জোরপূর্বক দখলের যেকোনো চেষ্টা থেকে তাইওয়ানকে রক্ষা করতে পারে পশ্চিমা দেশগুলো।

তাই হ্যাচসন বলেন, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে তাইওয়ান পাওয়ারহাউস হয়ে উঠলে আমেরিকা ও তার মিত্ররা দেশটিকে নানাভাবে সহায়তা করবে এবং রক্ষা করবে। এ কৌশলটি অত্যন্ত সফল হয়েছে।

তবে আমেরিকার সেমিকন্ডাক্টর তৈরির উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণ করা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাইওয়ানের বিরোধী দলের নেতা চিউ চেনইয়ুয়ান।

তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ য়ু-এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তাইওয়ানের চিপশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য আমেরিকার সঙ্গে গোপন চুক্তি করা হয়েছে।’
তার অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক কারণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসহ টিএসএমসির ৩০০ কর্মীকে (প্রকৌশলীসহ) আমেরিকার অ্যারিজোনার কারখানায় পাঠানো হচ্ছে।’

এর জবাবে য়ু বলেন, কোনো গোপন চুক্তি নেই। তাইওয়ানে টিএসএমসির গুরুত্ব কমানো হচ্ছে না।

সিএল সিকিউরিটিজ তাইওয়ানের প্রধান গবেষক প্যাট্রিক চেন বলেন, টিএসএমসির ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কারণে এটি বিভিন্ন দেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং এতে উদ্বেগ বাড়ছে। একে সত্তর ও আশির দশকের আমেরিকার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। সে সময় অনুরূপ উৎপাদনের জন্য দেশটির এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে কারখানা সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। এ কারণে অনেকে চাকরি হারায় এবং অনেক শহর দেউলিয়া হয়ে যায়।

টিএসএমসির সিইও সিসি ওয়েই বলেন, প্রত্যেক অঞ্চলের জন্য টিএসএমসি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পর্যায়ক্রমে সারাবিশ্বের ক্রেতাদের সেবা দেব।

মরিস চ্যাং ১৯৮৭ সালে টিএসএমসি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে বিশ্বের অত্যাধুনিক কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় চিপের ৯০ শতাংশ সরবরাহ করছে তারা। ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অবিচ্ছেদ্য অংশ এ চিপ।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading